বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সুবিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন: ভলকার তুর্ক
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত বিক্ষোভের সাথে সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা মোকাবেলায় জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন।
বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ে কাউন্সিলের ৫৫তম অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান দলের প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে তুর্ক বলেন, এই মুহূর্তটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তুর্ক এই মুহূর্তটিকে বাংলাদেশের জন্য তার অতীত মোকাবেলা এবং অতীতকে অতিক্রম করে নিরাময় ও সত্য বলার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হাইকমিশনার জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় অংশ নেন, বাংলাদেশে জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার সংস্কারের উপর আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্য এবং বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তুর্ক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার প্রাথমিক কথোপকথনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে সরকারের সংস্কার এবং ক্রান্তিকালীন প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব পাবে।
“অবশ্যই এটি কঠিন কাজ, এতে কোন সন্দেহ নেই। এটি সহজ নয়,” তিনি বলেন।
তিনি বলেন, '৫ আগস্টের পর আগের সরকারের সমর্থক এবং পুলিশ ও সংখ্যালঘুদের ওপর গুরুতর প্রতিশোধ নিতে দেখা গেছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে জবাবদিহি নিশ্চিতের বিষয়টি তুলে ধরেন ভলকার তুর্ক। তিনি বলেন, জবাবদিহি নিশ্চিতে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ (আইসিটি) আদালতে অনেক মামলা করা হয়েছে। তবে এসব মামলায় সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। জাতিসংঘ একাধিকবার মৃত্যুদণ্ডের বিধান নিয়ে আপত্তি বাংলাদেশ সরকারের কাছে তুলে ধরেছে। জাতিসংঘ চাইছে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যেন বাতিল হয়। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন এ বিষয়ে সরকারকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।'
জেনেভায় প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় ভলকার তুর্কের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
এ সময় আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশে কিছু রাজনৈতিক সহিসংতার ঘটনা ঘটেছে আওয়ামী লীগ রিজিমের নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে। যারা বহু বছর ধরে মানুষকে নির্যাতন ও হত্যা করেছে।
আসিফ নজরুল বলেন, তবে এ সব হামলার ঘটনা অধিকাংশই ঘটেছে মুসলিমদের ওপর। সামান্য কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে। এটিকে সংখ্যালুঘুদের ওপর হামলা হিসেবে দেখার সূযোগ নেই। আওয়ামী রিজিমের সময় মানুষকে নির্যাতন ও হত্যার সাথে জড়িতদের ওপর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এসব ঘটনা। আমরা সেটার নিন্দা জানাই।
তিনি বলেন, এটি সংখ্যালঘু ইস্যু ব্র্যান্ড করা উদ্দেশ্যপ্রনোদিত। আমাদের কাছে পরিসংখ্যান আছে। এ সম্পর্কে আমাদের কাছে ফ্যাক্ট চেকড তথ্য আছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে নির্বাচন প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের ভোটের অধিকারের ব্যাপারে আমাদের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেটা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল হোকা বা যেকোনো স্থানই হোক। আমরা এরই মধ্যে একটি কমিশন গঠন করেছি, যারা স্থানীয় সরকার ইস্যু নিয়ে কাজ করছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে