Views Bangladesh Logo

আশ্রয়ণের ঘর ভাঙার ভাইরাল ভিডিও, যা জানা গেল

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির সঙ্গে ‘বিএনপি সরকারের খাল খনন কর্মসূচির কারণে আশ্রয়ণের ঘর ভেঙে দেওয়া হচ্ছে’— এমন দাবি করা হলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তথ্যটি সঠিক নয়।

স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং এলাকাবাসীর তথ্যানুযায়ী, ঘটনাটি খাল খননের নয়; বরং ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান নদী খনন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

পাউবো সূত্র জানায়, যশোর-খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করতে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি নদীর সাড়ে ৮১ কিলোমিটার পুনঃখনন চলছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে।

ডুমুরিয়ার বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ভদ্রা নদীর তীরে অবস্থিত। নদী খননের সময় উত্তোলিত মাটি নদীর পাড়ে রাখায় কিছু স্থানে তা গড়িয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের দিকে চলে আসে। এতে কয়েকটি ঘরের আশপাশে মাটি জমে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হলেও কোনো ঘর ভেঙে ফেলা হয়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, নদী খননকাজ শুরু হওয়ার পর কিছু ঘর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তবে এটি বর্তমান সরকারের খাল খনন কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। প্রকল্পটি দীর্ঘদিন আগে শুরু হওয়া নদী খনন কার্যক্রমের অংশ।

ডুমুরিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নদীর চরে নির্মিত হয়েছিল। খননকাজে কোনো বাড়িঘর ভাঙা হয়নি। নদী থেকে উত্তোলিত মাটি পাশে রাখায় দূর থেকে কিছু ঘর ভাঙার মতো মনে হচ্ছে। মাটি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভবদহ নদী খনন প্রকল্পের সমন্বয়কারী ও যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী বলেন, প্রকল্পের প্রায় ৫৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। নদী থেকে তোলা মাটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের পাশে রাখায় মানুষের চলাচলে কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে কোনো ঘর ভাঙা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ