ভিউজ বাংলাদেশ লেখক সম্মিলনী: ঈদসংখ্যার ভূয়সী প্রশংসায় লেখক ও পাঠক
দ্বিভাষী অনলাইন গণমাধ্যম ভিউজ বাংলাদেশের ঈদসংখ্যার লেখকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো ‘লেখক সম্মিলনী ২০২৬’। শনিবার (৯ মে) বিকেলে ভিউজ বাংলাদেশের কারওয়ান বাজারস্থ কার্যালয়ে এই মুক্ত আলোচনা ও লেখক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে লেখক ও পাঠকরা ঈদসংখ্যার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভিউজ বাংলাদেশের সাফল্য কামনা করেন। এসময় লেখক-পাঠকদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে ভিউজ বাংলাদেশ কার্যালয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঈদসংখ্যার পরামর্শক সম্পাদক কবি সৈকত হাবিব। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ভিউজ বাংলাদেশের সম্পাদক রাশেদ মেহেদী।
ঈদসংখ্যার লেখকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাশেদ মেহেদী বলেন, ‘সবার সহযোগিতা ও ভালোবাসার কারণেই এ ধরনের কাজ করা সম্ভব হয়েছে। আপনারা পাশে থাকলে ভবিষ্যতেও আমাদের যাত্রা অব্যাহত থাকবে। ভিউজ বাংলাদেশ শুরু থেকেই ভিন্নধর্মী ও মানসম্পন্ন কাজ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। সবার সহযোগিতায় আগামীতেও ভিউজ বাংলাদেশ ভালো কাজ করবে—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।’
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন প্রাবন্ধিক মোরশেদ শফিউল হাসান, ছড়াকার আনজীর লিটন, লেখক আখতার হুসেন, কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীর, কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল, কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন, কবি টোকন ঠাকুর, গল্পকার আহসান হাবিব, কবি ও সাংবাদিক জুয়েল মাজহার, কথাসাহিত্যিক হামীম কামরুল হক, কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান, কথাসাহিত্যিক মুজতবা আহমেদ মুরশেদ, কবি জিললুর রহমান, কবি শাহেদ কায়েস, গল্পকার মাসউদ আহমাদ, দীনা আফরোজ, গল্পকার জায়েদ ফরিদ, কবি রোকেয়া ইসলাম, কবি তুষার দাশ, কবি ও অনুবাদক রুদ্র আরিফ, কবি ও গল্পকার চন্দন চৌধুরী, প্রাবন্ধিক হাসান ইকবাল, চলচ্চিত্র-বিষয়ক লেখক বিধান রিবেরু, প্রাবন্ধিক অখিল পোদ্দার, কথাসাহিত্যিক আবু তাহের সরফরাজ, কথাসাহিত্যিক নূর কামরুন নাহার, কবি পারভেজ বাবুল, অনুবাদক ও গল্পকার কবির চান্দ, অনুবাদক ও কথাসাহিত্যিক দিলওয়ার হাসান, কথাসাহিত্যিক ও গবেষক আনিস রহমান, লেখক অনার্য নাঈম, মো. মিজানুর চৌধুরী, সাংবাদিক রিতা নাহার, প্রাবন্ধিক স্বীকৃতি প্রসাদ বড়ুয়া, নাসির উদ্দিন চিশতী, লিটলম্যাগ সম্পাদক ও কবি আলমগীর খান, কবি ও সাংবাদিক শিমুল সালাহ্উদ্দিন, কবি দিপংকর মারডুক, কবি ফরহাদ নাইয়া, কবি নাফিউল হক, কবি ও লিটলম্যাগ সম্পাদক দৃষ্টি নূত প্রমুখ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ভিউজ বাংলাদেশের বার্তা সম্পাদক মারিয়া সালাম, সিনিয়র রিপোর্টার হিরা তালুকদার, ভিউজ নেটওয়ার্ক লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তাসনূভা পূর্বা, ঈদসংখ্যার সম্পাদনা পর্ষদের অন্যতম সদস্য শিমুল জাবালিসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মীবৃন্দ।
মুক্ত আলোচনায় ঈদসংখ্যার প্রশংসা করে লেখক ও গবেষক মোরশেদ শফিউল হাসান বলেন, ঈদসংখ্যার বাইরেও ভিউজ বাংলাদেশ যেন নিয়মিতভাবে সাহিত্যবিষয়ক ম্যাগাজিন প্রকাশ করে। যেমন— গল্পসংখ্যা, কবিতাসংখ্যা, প্রবন্ধসংখ্যা ইত্যাদি।
দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, এত কম সময়ে এত সুন্দর একটি সংখ্যা প্রকাশ করার জন্য ভিউজ বাংলাদেশকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
দৈনিক আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেন, পত্রিকাগুলোর উচিত শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চায় আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া।
কলকাতার দেশ পত্রিকার কথা উল্লেখ করে লেখক ছড়াকার আখতার হুসেন বলেন, ভিউজ বাংলাদেশের ঈদসংখ্যা সেরকমই একটি আবহ তৈরি করেছে। তিনি ভিউজ বাংলাদেশকে মাসিক বা দ্বিমাসিক ম্যাগাজিন প্রকাশের পরামর্শ দেন।
কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীর ঈদসংখ্যায় আরবি সাহিত্য ও অনুবাদ অন্তর্ভুক্তির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আরবি সাহিত্য অত্যন্ত চমৎকার। পড়ে আমি বিস্মিত হয়েছি। সেই থেকেই তায়িব সালেহের লেখা অনুবাদের চেষ্টা করি। যখন নিজে কিছু লিখতে পারি না, তখন অনুবাদে মনোযোগ দিই।
কবি ও কথাসাহিত্যিক মুজতবা আহমেদ মুরশেদ বলেন, ভিউজ বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতেই হবে। আমরা সঙ্গে আছি।
কথাসাহিত্যিক ও গবেষক আনিস রহমান বলেন, পত্রিকা প্রকাশের পারিপার্শ্বিক সংকটকে মোকাবিলা করেই সাহিত্যকর্মকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
অনুবাদক দিলওয়ার হাসান বলেন, একটি অনলাইন পত্রিকা হিসেবে ভিউজ বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই একটি মানসম্পন্ন ও গুণগত ঈদসংখ্যা প্রকাশ করেছে।
কবি জিললুর রহমান জানান, এই ঈদসংখ্যা পাঠ করে তিনি ঈদসংখ্যার প্রকৃত রুচি ও আনন্দ ফিরে পেয়েছেন।
কবি জুয়েল মাজহার বলেন, ভিউজ বাংলাদেশের ঈদসংখ্যায় লেখা নির্বাচনে যথেষ্ট রুচিশীলতার ছাপ রয়েছে। ঈদের বাইরেও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সংখ্যা প্রকাশ করা যেতে পারে।
প্রাবন্ধিক অখিল পোদ্দার বলেন, প্রচ্ছদ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। ভিউজ বাংলাদেশের নিজস্ব কার্যালয়ে এ ধরনের সাহিত্য আয়োজন এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
কবি তুষার দাশ আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এমন মানসম্পন্ন ঈদসংখ্যা প্রকাশ অব্যাহত থাকবে।
গল্পকার ও অনুবাদক কবির চান্দ বলেন, কনটেন্টের বৈচিত্র্য ও গুণগত মানের বিচারে ভিউজ বাংলাদেশের ঈদসংখ্যা সেরা।
কথাসাহিত্যিক হামীম কামরুল হক মন্তব্য করেন, ঈদসংখ্যাটিতে পাঠযোগ্য লেখার সমাহার ঘটেছে।
কবি টোকন ঠাকুর সংখ্যাটির বাঁধাই ও মুদ্রণ-পরিচ্ছদের প্রশংসা করেন।
চলচ্চিত্র-বিষয়ক লেখক বিধান রিবেরু বলেন, পথচলার শুরু থেকেই আমি ভিউজ বাংলাদেশের সঙ্গে আছি। এ পর্যন্ত ১২টি ঈদসংখ্যা সংগ্রহ করেছি। এর মধ্যে দুটি সংখ্যা বিশেষভাবে ভালো লেগেছে। মানের বিচারে ভিউজ বাংলাদেশ সর্বদা শীর্ষেই থাকবে।
পরামর্শক সম্পাদক কবি সৈকত হাবিব বলেন, আমাদের পথ কঠিন ছিল, কিন্তু সবার আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের ফলে আমরা সফল হয়েছি। তিনি এ সময় সকল লেখক ও কবির প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
ভিউজ বাংলাদেশের বার্তা সম্পাদক মারিয়া সালাম বলেন, এই সংখ্যা ভিউজ বাংলাদেশের প্রতিটি কর্মীর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফসল। দলগত প্রচেষ্টা ও সম্মিলিত কর্মোদ্যমের কারণেই এত সমৃদ্ধ একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে।
আলোচনা শেষে উপস্থিত সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে কেক কাটা হয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে