সিলেটে শিকল বেঁধে তরুণীকে টেনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, গ্রেপ্তার তিন
সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকায় চুরির চেষ্টার অভিযোগে এক তরুণীকে (২০) কোমরে শিকল বেঁধে সড়কে টেনে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার রাতে ঘটা এই ঘটনার একটি ভিডিও মঙ্গলবার রাত থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে শাহজালাল উপশহরের বি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে ওই তরুণীকে আটক করেন ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় কয়েকজন। পরে রাত ১১টার দিকে তাঁকে শিকল দিয়ে বেঁধে সড়কে হাঁটিয়ে নেওয়া হয়।
দোকানের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বোরকা পরা তিনজন নারী দোকানে ঢোকেন। সে সময় দোকানে থাকা এক শিশু তাঁদের পণ্য দেখাচ্ছিল। এক পর্যায়ে দুজন শিশুটিকে নিয়ে দোকানের সামনের দিকে গেলে অন্য নারী ভেতরে মাথা নুইয়ে ক্যাশবাক্স টান দেন। তবে তিনি টাকা নিতে পেরেছিলেন কি না, তা ফুটেজে স্পষ্ট নয়।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বোরকা পরা ওই তরুণীর কোমরে শিকল ও তালা বাঁধা। সামনে থাকা একজন শিকল ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, আর পেছনে কাঁদতে কাঁদতে তরুণী হাত ও কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করছেন। এ সময় সঙ্গে থাকা কয়েকজন তাঁকে কাঁদতে নিষেধ করে বলছিলেন, মুখ খোলা রাখলে মানুষ তাঁকে চিনতে পারবে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম বলেন, ওই তরুণী দোকানের ক্যাশবাক্সে হাত দিলেও টাকা নিতে পারেননি। খবর পেয়ে পুলিশ প্রথমবার গেলে স্থানীয়রা বিষয়টি নিজেরা মীমাংসা করার কথা বলেন, তখন পুলিশ ফিরে আসে। রাত ১১টার দিকে ব্যবসায়ীরা আবার ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তরুণীকে থানায় নিয়ে যায়। তবে চুরির অভিযোগে কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাশের একটি দোকানের এক ব্যবসায়ী বলেন, 'ঠিক আছে চুরির চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাঁকে পুলিশে না দিয়ে এভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে হাঁটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ভালো হয়নি।'
ভিডিও ভাইরালের পর গ্রেপ্তার তিন
ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন দোকানমালিক জাকির হোসেন (৪৩), তাঁর ভাই মোজাক্কির হোসেন (৪০) ও একই এলাকার বোরহান উদ্দিন (৪৫)।
শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, আটকের পর পুলিশ বাদী হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁরা তরুণীকে আটকে রেখে নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করেছেন এবং ঘটনার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আজ তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, আদালতের নির্দেশে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার পর তরুণী বাড়ি ফিরে গেছেন। তাঁর বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায়।
মতামত দিন