দেড় শতাধিক প্রযোজনায় অভিনয় করা যাত্রাশিল্পী মিলন কান্তি দে আর নেই
দেড় শতাধিক প্রযোজনায় অভিনয় করা প্রখ্যাত যাত্রাশিল্পী, পরিচালক ও লেখক মিলন কান্তি দে মারা গেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কলিশহরে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন গবেষক আমিনুর রহমান সুলতান।
আমিনুর রহমান সুলতান জানান, মিলন কান্তি দে বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। শনিবার সকাল থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরে নিজ বাড়িতেই তিনি মারা যান। সৎকারের বিষয়ে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মিলন কান্তি দের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যাত্রাশিল্পের একজন পথিকৃৎ হিসেবে তার অবদান স্মরণ করে সহকর্মী, নাট্যজন ও সংস্কৃতিকর্মীরা শোক প্রকাশ করছেন।
১৯৪৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছনহরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিলন কান্তি দে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালার সংস্কার ও আধুনিকীকরণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। যাত্রা থিয়েটারকে সময়োপযোগী করে তোলার প্রয়াসে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিন তিনি যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
অভিনয় জীবনে মিলন কান্তি দে ১২০টিরও বেশি যাত্রা প্রযোজনা পরিচালনা করেছেন এবং ১৫১টিরও বেশি প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন। ১৯৬৬ সালে অভিনয়ে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৯৩ সালে তিনি ‘দেশ অপেরা’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা যাত্রাশিল্পে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করে। পাশাপাশি তিনি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন।
নাট্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। আজীবন যাত্রাশিল্পে নিবেদনের জন্য ২০২৩ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে যাত্রা শিল্পী সম্মাননাও পান এই গুণী শিল্পী।
২০২৪ সালে প্রকাশিত হয় তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আমি যে এক যাত্রাওয়ালা’, যেখানে যাত্রাশিল্পে তাঁর দীর্ঘ পথচলার গল্প উঠে আসে। একই বছরে তাঁর নির্বাচিত রচনাসমূহ সংকলিত হয়ে ‘নির্বাচিত যাত্রাপালা’ নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়, যা একুশে বইমেলায় বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়।
এ ছাড়া তার আরেকটি গ্রন্থ ‘যাত্রা শিল্পের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নন্দিত নায়িকারা’ প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে, যা নবান্ন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হবে। বইটির প্রচ্ছদের ছবি শেয়ার করে মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি লিখেছিলেন, এটাই হতে পারে আমার শেষ বই। জীবনের শেষ মুহূর্ত কাটাচ্ছি, সবাই প্রার্থনা করবেন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে