চিকিৎসাধীন শিশুর মৃত্যুর জেরে ঢামেক হাসপাতালে ভাঙচুর
চিকিৎসাধীন শিশু সাফওয়ানের মৃত্যুর জেরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত জুয়েল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
চার বছরের সাফওয়ান পুরান ঢাকার বাংলাবাজারের সাত রোজা বাংলাদেশ মাঠ এলাকার সামির হোসেনের ছেলে।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনার পর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতালের কর্মীরা সাফওয়ানের বাবা সামির হোসেনসহ দুই স্বজনকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেছেন। হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
হাসপাতালের ২১০ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মো. আব্দুল্লাহ জানান, রাত সাড়েআটটার দিকে শিশুটি সাফওয়ানকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ তুলে তার স্বজনেরা চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। ক্ষুব্ধ স্বজনেরা চিকিৎসকদের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। পরে তারা জরুরি বিভাগে গিয়ে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন । একপর্যায়ে কয়েকজন সেখানে ভাংচুর চালান। মরদেহ নেয়ার সময় ট্রলি বহনকারীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।
শিশুটির ফুপি সীমরান অভিযোগ করে বলেন, ‘সাফওয়ান কিডনির সমস্যায় ভুগছিল এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল। সন্ধ্যায় তার অবস্থার অবনতি হলে ঢামেক হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু এখানে কোনো চিকিৎসা দেয়া হয়নি। সে কারণেই আমাদের শিশুটি মারা গেছে। উল্টো হাসপাতালের কর্মীরা তার বাবা সামির ও তার বন্ধু সোয়েব হোসেনকে মারধর করেছেন’।
২১০ নম্বর ওয়ার্ডের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা।
হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার প্লাটুন কমান্ডার সেলিম মিয়া বলেন, শিশুর স্বজনেরা ২১০ নম্বর ওয়ার্ডের দরজা ভাঙচুর করেছে, ডিউটিরত নার্স-চিকিৎসক ও জরুরি বিভাগের এক আনসার সদস্যের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। একজন ট্রলিম্যান বাধা দিলে তাকেও গুরুতর মারধর করা হয়’।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. ফারুক বলেন, ট্রলিম্যানকে মারধরের পর হাসপাতালের কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে মৃত শিশুটির দুই স্বজনকে আটকে মারধর ও শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে