বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র জনগণের সম্পর্ক আরও গভীর হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ পার্কে মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আমেরিকান ফেয়ার ইন দ্য পার্ক’ অনুষ্ঠান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘আমেরিকা সপ্তাহ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত। সমগ্র আয়োজনে সহযোগিতা করেছে গুলশান সোসাইটি।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছরের ইতিহাস কেবল তাদের নিজেদের নয়, এটি বিশ্বের অনেক মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামও সেই ধারার অনুপ্রেরণার অংশ।’ তিনি আরও বলেন, ২৫০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬ জন প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতা ও আত্মশাসনের জন্য সবকিছু ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিলেন। সেই আত্মত্যাগ ও মূল্যবোধের ইতিহাস এখন বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আরও বেশি ভাগ করে নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, ‘আমরা চাই, আমাদের ইতিহাস, আদর্শ ও মূল্যবোধ বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ ও সংস্কৃতিকে আরও ভালোভাবে জানতে চাই।’ এই আয়োজনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে আরও ভালোভাবে বুঝতে চায়, আর বাংলাদেশও যেন যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কাছ থেকে জানতে পারে— সেই সুযোগ তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
প্রদর্শনীতে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ তুলে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন স্টলের মাধ্যমে। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনে দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে কয়েকটি তথ্যভিত্তিক স্টল, যেখানে আমেরিকার স্বাধীনতার পথচলা, গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা এবং গণতান্ত্রিক বিকাশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার ওপর।
অনুষ্ঠানে বিশেষ পরিবেশনা করে ২৫তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের (২৫ আইডি) ইউএস আর্মি ব্যান্ড। মূল সহযোগী হিসেবে গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন, ‘গুলশান এলাকায় বিভিন্ন দেশের দূতাবাস রয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে নানা আয়োজনে সহযোগিতার মাধ্যমে দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আরও কাজ করতে চাই।’
‘আমেরিকা সপ্তাহ’ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে মার্কিন দূতাবাস।
মতামত দিন