১৯৭১ সালে আমেরিকার অবস্থান ভুল ছিল: প্রাক্তন মার্কিন কূটনীতিক
বাংলাদেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সম্পর্কে জোর দিয়ে বিশেষত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অতীতের ভুলগুলো স্বীকার করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মিলাম।
পূর্ববর্তী শাসনামলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের উপর তার বিস্তৃত লেখার উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সমাজগুলোর স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে রূপান্তরের ক্ষমতা রয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে শনিবার (৮ মার্চ) এক আলোচনা সভায় কূটনৈতিক পদে দায়িত্ব পালনকালে নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রাপ্তির চ্যালেঞ্জগুলো স্বীকার করেন প্রাক্তন মার্কিন কূটনীতিক জন এফ ড্যানিলোভিচও। এ ধরনের পরিবেশে কূটনৈতিক জটিলতা নিরসনে জোর দেন তিনি।
‘মিলাম ও জন এর সাথে কথোপকথনে ঢাকায় নতুন ভোর: গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের গতিশীলতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভাটির আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন সম্পর্কে উইলিয়াম বি মিলাম মন্তব্য করেন, ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করেছে। ফলে বাংলাদেশের সাথে ভবিষ্যত সম্পর্কের পূর্বাভাস দেয়া কঠিন।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তায় জোর দেন এবং মাঝে মাঝে ভঙ্গুর বেসামরিক প্রশাসনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা স্বীকার করেন তিনি।
অন্যদিকে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করে ড্যানিলোভিচ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ চলমান তথ্যযুদ্ধে লিপ্ত এবং তিনি সতর্ক করে দেন, দেশটি এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভিত্তি হারাচ্ছে।
তিনি ২০১১ সালে বাংলাদেশের ১/১১ রাজনৈতিক সংকটে মার্কিন হস্তক্ষেপকে কৌশলগত ভুল বলে উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যতের তাকিয়ে ড্যানিলোভিচ আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতি গ্রহণ করবে, শাসন ও কূটনীতিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে।
ড্যানিলোভিচ আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাংলাদেশের নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য মার্কিন তহবিল সম্পর্কে বিবৃতিও সেসব লোকদের দেয়া বিভ্রান্তিকর তথ্য, যারা দুই দেশের সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করতে চান।
সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন বিদেশি মিশনের কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী নেতা, আন্তর্জাতিক এনজিওর প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, গণমাধ্যম পেশাদার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
জিল্লুর রহমান সুশাসনের প্রচারের উদ্যোগে গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের ক্রান্তিকালীন রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এই ধরনের আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সমর্থন এবং টেকসই ও জবাবদিহিমূলক শাসন কাঠামো নিশ্চিতে অব্যাহত সংলাপের প্রয়োজনীয়তায়ও জোর দেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে