ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের, প্রতিটি দেশকে তেহরানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক ছিন্নের হুঁশিয়ারি
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যরত প্রতিটি দেশকে আর্থিক সম্পর্ক ছিন্নের হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, যেসব দেশ তেহরানের সঙ্গে এই সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।
‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামের এই অভিযানের আওতায় বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সরাসরি ফোনালাপে ইরান-সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বান জানাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও।
বেসেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রতিটি দেশকে আমাদের প্রত্যাশা জানিয়ে দিচ্ছি। আমরা জানি তারা কারা। তারাও জানে তারা কারা। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের হাতুড়ি যখন তাদের ওপর নেমে আসবে, তখন নিজেদের ছাড়া দোষ দেওয়ার আর কেউ থাকবে না।"
গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সোমবারের ঘোষণা শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন হলেও কোন কোন দেশ এই নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে, তা উল্লেখ করা হয়নি। ইরানের সঙ্গে সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে চীন, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের।
ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল ও জাহাজ পরিবহন খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাজস্ব আয় নিশ্চিত করা এবং তাদের ওপর তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে এই খাতগুলো ব্যবহার করে আসছে।
এর পাশাপাশি পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির অবৈধ সংগ্রহ, সাইবার কার্যক্রম ও তেল পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রেজারি বিভাগ। একই সঙ্গে স্থগিত করা হয়েছে ইরানের সঙ্গে নির্দিষ্ট অর্থ লেনদেন এবং মার্কিন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইরানিদের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত আগে দেওয়া বেশ কিছু লাইসেন্স।
সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বেসেন্ট বলেন, দেশগুলোকে সময় থাকতেই সরে আসার সুযোগ দিতে চান তিনি। তিনি জানান, ট্রাম্পের ফোনালাপের ফল ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে—এর দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের সিদ্ধান্তের কথা।
একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিবেদনের পর গত সপ্তাহে আরব আমিরাত জানিয়েছিল, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তারা ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম স্থগিত রাখছে। বেসেন্ট বলেন, এই সিদ্ধান্ত ‘কোনো কাকতালীয় ব্যাপার নয়।’
প্রায় ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন, অন্যদিকে তেহরান ক্রমেই অনমনীয় অবস্থান নিচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে আসায় মার্কিন কর্মকর্তারা অর্থনৈতিক যুদ্ধের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, লড়াইয়ের বর্তমান বিরতির মধ্যে ইরানে ফের হামলা চালানোর সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
বেসেন্টের ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান। গত ছয় মাস ধরে তেহরানের পক্ষে মূল আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কালিবাফ বলেন, অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র নেই।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদাররা গণমাধ্যম এবং সরাসরি বার্তার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা এসব বিবৃতিকে কোনো গুরুত্ব দেয় না।’
সূত্র: এপি
মতামত দিন