শ্রম অধিকার হরণ হলে শাস্তি ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেবে যুক্তরাষ্ট্র
শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা, শ্রমিক অধিকারের পক্ষের কর্মী, শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে যারা হুমকি ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করবে, তাদেরকে জবাবদিহির আওতায় আনবে যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় নতুন নীতি ঘোষণা করেছে দেশটি। আর এই নীতি বাস্তবায়নে ৫টি দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দিকনির্দেশনা অনুযায়ী প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার অনুযায়ী শ্রম সুরক্ষায় সরকার, শ্রমিক, শ্রমিক সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, নাগরিক সমাজ এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবে। তার মানে আমাদের সব রাষ্ট্রদূতসহ সব মিশনপ্রধানরা শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবে।
দ্বিতীয়ত, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা, শ্রমিক অধিকারের পক্ষের কর্মী, শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে যে বা যারা হুমকি ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করবে-তাদেরকে জবাবদিহির আওতায় আনবে যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্যিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও ভিসা নিষেধাজ্ঞাসহ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যত ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে, তা প্রয়োগ করা হবে।
তৃতীয়ত, শ্রম অধিকার উন্নয়নে ফেডারেল সরকারগুলোকে শক্তিশালী করবে যুক্তরাষ্ট্র।
চতুর্থত, জাতিসংঘ, জি-২০সহ বহুপক্ষীয় ফোরামগুলোসহ বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে শ্রম অধিকার ও মান উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র, যাতে নীতি গ্রহণে শ্রম অধিকার অগ্রাধিকার পায়।
আর সর্বশেষ শ্রমিক সুরক্ষা ও জোরপূর্বক শ্রম বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব বাণিজ্য চুক্তিতে বিষয়গুলো নিশ্চিত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।
এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) প্রথমবারের মতো একটি মেমোরেন্ডামে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মেমোরেন্ডামে স্বাক্ষরের অংশ হিসেবে তিনি ফেডারেল বিভাগ এবং সংস্থাগুলোকে দেশের বাইরে শ্রম অধিকার ও শ্রমিকদের ক্ষমতায়নকে এগিয়ে নিতে কাজ করার নির্দেশ দেন।
পরে এ ব্যাপারে এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইতিহাসের সবচেয়ে শ্রমবান্ধব প্রেসিডেন্ট এবং তিনি একটি টেকসই বৈশ্বিক অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যারিস মিলিতভাবে উন্নত শ্রম মান, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের মতামতকে নিয়ে আসা এবং অন্যায্য শ্রম শোষণের বিরুদ্ধে আইন করার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। আর এটা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নয় বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বাস্তবায়ন করা হবে।
এতে আরও বলা হয়, শ্রমিক এবং শ্রম সংগঠনগুলো গণতন্ত্রের মূল চাবিকাঠি। ইতিহাসের সর্বত্রে, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে কমিউনিস্ট পোল্যান্ড, ব্রাজিলের সামরিক শাসন এবং মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়নগুলো গণতন্ত্রের পক্ষে নাগরিক আন্দোলনের মূল অস্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।
এ সম্পর্কিত মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বক্তব্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন বলেন, শ্রমিকরা আমাদের অবকাঠামো তৈরি, পণ্য উৎপাদন এবং রপ্তানি করে আমাদের প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন শিল্প গড়ে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং পুরো বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনায় এসব শ্রমিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, বিশ্বের অনেক স্থানে শ্রমিকদের এ সুযোগ দেওয়া হয় না। শুধু তাই নয়, কিছু স্থানে শ্রমিকদের মানসম্পন্ন জীবনযাপনকেও অস্বীকার করা হয়। তাদের হয়রানি এবং ক্ষতি করা হয়। এমনকি তাদের অধিকার চাইতে গেলে হত্যার শিকার হতে হয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে