সরকারের শ্রম অধিকার ও ব্যবসা পরিবেশে গুণগত পরিবর্তনের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উদ্যোগ এবং শ্রম অধিকার, বিনিয়োগ পরিবেশ ও ব্যবসায়িক পরিবেশে গুণগত পরিবর্তনের জন্য প্রশংসা করেছে।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) এর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল এই প্রশংসা জানায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলটি আশাবাদ ব্যক্ত করে যে- আগামী বছরের শুরুতে ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্ট (টিকফা) এর পরবর্তী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
এই অধিবেশনে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা গভীরতর, শক্তিশালী ও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা করবে।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অর্থনৈতিক ও শ্রম বিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্রেন্ডান লিঞ্চের সফরসঙ্গী ছিলেন ঢাকার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মেগান বোল্ডিন এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ট্রেড পলিসি বিশ্লেষক এমিলি অ্যাশবি।
পররাষ্ট্র সচিব শ্রম খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া এবং ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি) থেকে অর্থায়নের বিষয়ে উচ্চ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিনিধি দলটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে টিকফা-পূর্ব আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সচিবকে অবহিত করে।
ব্রেন্ডান লিঞ্চ শ্রম সংস্কার, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং কাস্টমস আধুনিকীকরণে সহযোগিতা প্রদানে ইউএসটিআর কার্যালয়ের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জিএসপি সুবিধা পুনঃস্থাপন এবং ডিএফসি থেকে অর্থায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত ১১ দফা শ্রম কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
পররাষ্ট্র সচিব অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অব্যাহত অংশীদারিত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান।
তিনি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী দেশের শ্রম পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসা পরিবেশ সহজ করার জন্য সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র সচিব শ্রম খাতের সংস্কারে অর্জিত অগ্রগতির কথা তুলে ধরে জানান, শ্রম আইন সংশোধন, বার্ষিক ৯ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি এবং ১৮ দফা শ্রম চুক্তি বাস্তবায়ন ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
তিনি বাংলাদেশে ব্যবসা করার পরিবেশ সহজ করতে প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নেয়া সংস্কার উদ্যোগগুলোর কথা উল্লেখ করেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে