বিশ্বকাপ ঘিরে বড় লোকসানের শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হোটেলগুলো
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল ও পর্যটন খাতে যে বড় ধরনের অর্থনৈতিক উত্থানের প্রত্যাশা ছিল, তা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে ‘আমেরিকান হোটেল অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশন (এএইচএলএ)’।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়োজক শহরগুলোর বেশিরভাগ হোটেলেই বুকিং প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। বিপুলসংখ্যক বুকিং বাতিল হওয়ায় বহু হোটেলে ফাঁকা রুম পড়ে আছে, যা খাতটিতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা তৈরি করেছে।
এএইচএলএ অভিযোগ করেছে, ফিফার আগে দেওয়া ‘৫০ লাখের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে’—এমন তথ্যের সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার মিল নেই। তাদের মতে, এই ধরনের পূর্বাভাস বাজারে অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফিফা আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে বিপুলসংখ্যক হোটেল রুম আগে থেকেই ব্লক করে রাখে। পরে সেগুলোর বড় অংশ বাতিল হওয়ায় বাজারে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি হয়েছে এবং হোটেল খাতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বোস্টন, ডালাস, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া ও সিয়াটলসহ একাধিক শহরে সংরক্ষিত রুমের উল্লেখযোগ্য অংশ বাতিল হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ফিফার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে এবং মোট দেশজ উৎপাদনে প্রায় ১৭.২ বিলিয়ন ডলার যোগ হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশা পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
কিছু শহরে হোটেল ভাড়া সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমলেও অনেক জায়গায় এখনো প্রতি রাতের খরচ ৩০০ ডলারের বেশি। এতে স্বল্প বাজেটের দর্শকরা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে।
তবে এএইচএলএ বলছে, শেষ মুহূর্তে বুকিং কিছুটা বাড়তে পারে এবং ভক্তদের চূড়ান্ত পরিকল্পনার অপেক্ষায় রয়েছে বাজার। অন্যদিকে ফিফা জানিয়েছে, সব বুকিং ও চুক্তি নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে এবং বড় ইভেন্টে এ ধরনের সমন্বয় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাতে যে বড় অর্থনৈতিক উত্থানের আশা করা হয়েছিল, তা এখন বাস্তবতার সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে