Views Bangladesh Logo

যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ উপদেষ্টা ও গভর্নরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ কোম্পানি স্মিথ কো-জেনারেশনের সালিশি মামলায় অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত করেছেন দেশটির আদালত।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী জানান, শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) পরোয়ানাটি স্থগিত করেন ইউএস ডিস্ট্রিক্ট বিচারক কার্ল জে নিকোলস স্মিথের আদালত। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সালিশি রোয়েদাদের তিন কোটি ১৯ লাখ ডলার আদায়ের মামলাটিতে সাক্ষ্য দিতে প্রতিষ্ঠানটির আবেদনে বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সালেহ উদ্দিন আহমেদ ও আহসান এইচ মনসুরকে আদালতে হাজির করতে মার্কিন মার্শাল সার্ভিসকে আদেশ দেন একই আদালত।

ফেসবুক পোস্টে রাষ্ট্রদূত আনসারী জানান, ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে চুক্তিটি বাতিলের অভিযোগে স্মিথ কো-জেনারেশন (বাংলাদেশ) মামলাটি করেছিল।

তিনি লিখেছেন, ‘১৯৯৭ সালে স্মিথ কো-জেনারেশনের সাথে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেছিল এবং দেশের উত্তরাঞ্চলে বার্জ-মাউন্টেড বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিল তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার। ওই মামলায় দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর পর ওয়াশিংটন ডিসি সার্কিট কোর্ট অনেকটা এখতিয়ার বহির্ভূত রায় দেন, যা শুক্রবার আদালত কর্তৃক স্থগিত করা হয়। বিষয়টির সাময়িক অবসান ঘটেছে, তবে লুটেরা সরকারের দায় রক্তস্নাত বিপ্লবে গঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকার নিতে পারে না। বাংলাদেশ সরকারের সে সময়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে এবং বিষয়টি বর্তমান সরকারের নজরে না এনে ধামাচাপাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি’।

গত সোমবার (২১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে যান অর্থ, বাণিজ্য এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার নেতৃত্বে দলটিতে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরসহ সাতজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা। শনিবার (২৬ অক্টোবর) পর্যন্ত চলবে এই সভা।

এর আগে সালেহউদ্দিন আহমেদ ও আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি জানিয়ে প্রতিবেদন করে নিউইয়র্কভিত্তিক আইনি গণমাধ্যম ল-৩৬০।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ মার্কিন আদালতে আপিল করে বাংলাদেশ। আপিলে লেখা হয়, যে দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তারা উচ্চ পর্যায়ের বাংলাদেশি কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি এবং দেওয়ানি মামলা থেকে দায়মুক্ত।

‘বিচারক নিকোলসের আদালতের রায় এক্তিয়ার বহির্ভূত ও গ্রেপ্তারের প্রয়োগ অযোগ্য’ বলেও লেখা হয় আপিলে।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমাদের কাছে তারা আইনি পরামর্শ চাইলে তা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে এর বেশি বিস্তারিত এখন বলতে পারবো না।'

১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিক্রির চুক্তিতে স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক পাওয়ার কোম্পানি স্মিথ কো-জেনারেশন। কিন্তু ১৯৯৯ সালে প্রকল্পটি বাতিল করে দেয় বাংলাদেশ সরকার। সে বছরই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিসি) অভিযোগ দেয় কোম্পানিটি। পরে ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলাটি করে।

মামলায় উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশের অর্থায়নের ‘দুজন সিনিয়র নেতা’ উল্লেখ করে অভিযোগ নিষ্পত্তিতে তাদের জবানবন্দির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

ওই মামলায় বৃহস্পতিবার বিকালে ডিসি সার্কিটে হঠাৎ করেই দ্রুত আপিল করে প্রতিষ্ঠানটি। আদালতকে তারা জানায়, সাক্ষ্য দিতে বুধবার (২৩ অক্টোবর) আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের। কিন্তু তারা আসেননি।

উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও গভর্নর আহসান এইচ মনসুর আহমেদ দুজনেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠকে এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে আছেন। স্মিথ কো-জেনারেশন আপিলে বলে, এই সফরটি হতে পারে তাদের জবানবন্দি নেওয়ার একমাত্র সুযোগ।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ