এআই নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পথ আলাদা, মুখোমুখি দুই পরাশক্তি
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই নীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে চলতি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ উন্নত এআইকে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে বেইজিংয়ের অবস্থান হলো, প্রযুক্তিগত মানদণ্ড, আইনি কাঠামো, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং সরকারি তদারকির মাধ্যমে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
চীন ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে নীতিমালা ও মানদণ্ড তৈরিতে এগিয়েছে। গত মে মাসে চীনের সাইবারস্পেস প্রশাসন, জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন এবং শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এআই এজেন্টের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল ব্যবহারের জন্য নির্দেশনা প্রকাশ করে। এতে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণকে অন্যতম মৌলিক নীতি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে চীন এআই এজেন্টগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ ও নিরাপদ কার্যক্রমের জন্য জাতীয় মানদণ্ডও চালু করেছে। সাত অংশের এই মানদণ্ডে এআই এজেন্টের পরিচয় নির্ধারণ, সক্ষমতা শনাক্তকরণ, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং বাহ্যিক প্রযুক্তি বা সরঞ্জাম ব্যবহারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ৭০টির বেশি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংস্থা এর প্রণয়নে অংশ নেয়।
তবে চীনের তৈরি এআই মডেলগুলোও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, চীনা এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি কিছু মডেলও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পাশ কাটানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় এআই ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ হারালে তা কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সেটি এখন চীনের নীতিনির্ধারকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর একাংশ যেখানে উন্নত এআইয়ের বিকাশ ধীর করার আহ্বান জানাচ্ছে, সেখানে চীন অর্থনীতি ও শিল্পের বিভিন্ন খাতে দ্রুত এআই ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রস্তুত না থাকলে নতুন এআই প্রযুক্তির উন্মোচন বা ব্যবহার সীমিত করার নজিরও রয়েছে দেশটির। ফলে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের প্রতিযোগিতা এখন শুধু উন্নত এআই তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, প্রযুক্তিটিকে কতটা নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য রাখা যায়, সেই প্রশ্নও দুই পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।
মতামত দিন