সৌদি আরবের মুখোমুখি উরুগুয়ে
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল সৌদি আরব ও দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে দুই দলের জন্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা, কারণ নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে প্রথম ম্যাচের ফল বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে উরুগুয়ে অন্যতম সফল দল। ১৯৩০ সালে প্রথম এবং ১৯৫০ সালে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতেছিল দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। এছাড়া ২০১০ সালে সেমিফাইনাল এবং ২০১৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে নিজেদের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করেছে তারা। এবারও শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামছে আকাশি-নীল জার্সিধারীরা।
তবে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সৌদি আরবও। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই পরবর্তীতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া আর্জেন্টিনাকে ২–১ গোলে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে বিস্মিত করেছিল গ্রিন ফ্যালকনস। সেই জয়কে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবারও সেই স্মৃতি সামনে রেখেই নতুন চমকের স্বপ্ন দেখছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধিরা।
উরুগুয়ের দলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেল রয়েছে। আক্রমণে থাকছেন ডারউইন নুনিয়েস, মাঝমাঠে ফেদেরিকো ভালভার্দে, আর রক্ষণে নেতৃত্ব দেবেন রোনাল্ড আরাউহো। অন্যদিকে সৌদি আরব ভরসা রাখছে তাদের সংগঠিত দলীয় ফুটবল, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগের ওপর।
চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ফল দেখা গেছে। কেপ ভার্দে স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে, আর মিসরও শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১–১ গোলে ড্র করে চমক দেখিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবও আরেকটি অঘটন ঘটাতে পারে কি না, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের বড় প্রশ্ন।
অন্যদিকে উরুগুয়ের লক্ষ্য হবে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা। দক্ষিণ আমেরিকার দলটি জানে, গ্রুপ পর্বে পয়েন্ট হারালে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে চাপ আরও বেড়ে যাবে। তাই প্রথম ম্যাচেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে নকআউট পর্বের পথে এগিয়ে যেতে চাইবে তারা।
একদিকে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞ ও সফল এক দল, অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে জায়ান্টকিলার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সৌদি আরব। সব মিলিয়ে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে গ্রুপ পর্বের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই।
মতামত দিন