সুচিকিৎসার দাবিতে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আহতদের আগারগাঁও সড়ক অবরোধ
সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে হাসপাতাল এর বেড ছেড়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মিছিল নিয়ে সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহতরা। আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবন থেকে শুরু করে টিবি হাসপাতাল পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ করে রেখেছেন তারা।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যা থেকেই তারা অবস্থান নিয়েছিলেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবন, ২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতাল ও জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সামনে অবস্থান নিয়েছেন এই আন্দোলনকারীরা। এসব এলাকা দিয়ে কোনো যানবাহন যেতে দেয়া হচ্ছে না। শুধু রোগী বা অ্যাম্বুলেন্স দেখে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে গাড়ি। এ অবস্থায় এই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় আশপাশে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট।
চিকিৎসাসেবা ঠিকমতো পাচ্ছেন না- এমন অভিযোগ করে গতকাল রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ভেতরে বিক্ষোভ দেখান জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত এই ব্যক্তিরা। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। রাতেও বিক্ষোভ চলে; কিন্তু এখন পর্যন্ত এই বিক্ষোভ প্রশমনে সরকারের পক্ষ থেকে কেউ আসেননি বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভকারী ব্যক্তিরা বলছেন, যারা এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, তাদের কারও এক চোখে আঘাত, আবার কারও দুই চোখে আঘাত পেয়েছে। অনেকের আঘাত খুবই গুরুতর; কিন্তু তাদের অনেকেই সঠিক চিকিৎসা পাননি।
আজ সকালে দেখা গেছে বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ রাস্তার মাঝে চাদর বিছিয়ে শুয়ে আছেন। রাস্তার মাঝে বেঞ্চ পেতেও বসে আছেন অনেকে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভকারীরা বলেন, জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া ধীরগতির। এখন হাসপাতালে যারা আছেন, তাদের চিকিৎসা ঠিকমতো করা হচ্ছে না। সবার জন্য সুচিকিৎসা দিতে হবে, প্রয়োজনে বিদেশে পাঠাতে হবে।
বিক্ষোভকারীদের একজন মো. দুলাল। তিনি হাতে আঘাত পেয়েছিলেন। দুলাল বলেন, তিন মাসে আগে সরকারের পক্ষ থেকে সুকিচিৎসার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল; কিন্তু ওই পর্যন্তই। এখন পর্যন্ত কোনো ভালো চিকিৎসা তিনি পাননি।
বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, সরকারের কেউ এখন তাদের খোঁজখবর আর নেন না। আন্দোলনে তাদের অবদান রয়েছে। এখন তাদের সুচিকিৎসার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে এ আন্দোলনের ক্ষেত্রে তাদের অবদানের জন্য।
পটুয়াখালীর খলিলুর জানিয়েছেন, তিনি গাজীপুরে গার্মেন্টসে কাজ করতেন। জুলাই আগস্ট আন্দোলনে সমর্থনসহ নিয়মিত তিনি গাজীপুর থেকে আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায় নিতে গিয়ে প্লেন থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তাদের সুচিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাই করছেন না বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারসহ সমন্বয়করা।
এদিকে চোখ হারানো স্বপন মিয়া বলেন, ‘আমি দুই চোখেই দেখছি না! কিন্তু চিকিৎসক একটু দেখেই বলছেন সব ঠিক আছে?’
আন্দোলনরত আহতদের দাবি প্রধান উপদেষ্টাসহ কোনো উপদেষ্টা তাদের কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছেন না! শুধু তাই নয় যাদের ডাকে রাস্তায় নেমে এসেছিলাম তারাও খোঁজ নিচ্ছে না!
আরিফ হোসেন বলেন, আমাদের রক্তে দাঁড়িয়ে আজকের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ও উপদেষ্টা। তারা ব্যস্ত তাদের নিয়ে! গত দুদিন ধরে আমরা রাস্তায় অথচ কেউ আমাদের কাছে আসেনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের ইতালিতে পাঠিয়ে দেয়া হোক চিকিৎসার জন্য। আমরা টাকা, বাড়ি, গাড়ি কিছুই চাই না।
এ বিষয়ে শেরেবাংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম আযম ভিউজ বাংলাদেশকে জানান, গতকাল রাত থেকেই জুলাই আগস্ট আন্দোলনে আহতরা অবস্থান নিয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে