Views Bangladesh Logo

ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরাচার রোধে আইনসভার উচ্চকক্ষ জরুরি: আলী রীয়াজ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তিবিশেষের হাতে স্বৈরাচারী ক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়া ঠেকাতেই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বারবার একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ব্যক্তি নির্ভরতা নয়, বরং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলাই একমাত্র পথ।

সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, জুলাই সনদে সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। উচ্চকক্ষ চালু হলে জনগণের পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে এবং সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সবার মতামত প্রতিফলিত হবে।

তিনি আরও বলেন, সমতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও গত ৫৪ বছরে সেই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। দলীয় বিবেচনা ও ব্যক্তিগত ক্ষমতার লোভে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আসন্ন গণভোটকে রাষ্ট্র সংস্কারের ভিত্তি উল্লেখ করে গণভোট বিষয়ক সরকারি প্রচারণার মূখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ বলেন, রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন এনে তা আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে হলে জনগণের রায়ের কোনো বিকল্প নেই।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার বলেন, গণভোট ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আবারও ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার ঝুঁকি তৈরি হবে। তিনি বলেন, জনগণের সম্মতি ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় কোনো বিধিনিষেধ নেই। কারণ গণভোটে কোনো প্রার্থী নেই—এটি সবার সম্মিলিত এজেন্ডা। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষ আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।

রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় রাজশাহী বিভাগের সব জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, দেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতিও তিনি তুলে ধরেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ