টেন্ডার ছাড়াই সরকারি ভবন ভেঙে মালামাল বিক্রির অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন আক্তারের বিরুদ্ধে সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করে উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
‘পায়রা’ নামে পরিচিত দোতলা এই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা, টেন্ডার আহ্বান, নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কিংবা সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা—কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই ভেঙে ফেলা হয়েছে। এমনও অভিযোগ রয়েছে, ভাঙা মালামাল বিক্রি করে সেই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
নব্বইয়ের দশকে নির্মিত এই ভবনটি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ভাঙচুরের শিকার হলেও তার মূল কাঠামো অক্ষতই ছিল। সরকারি বিধি অনুযায়ী, এ ধরনের ভবন ভাঙতে হলে ইউএনওর আবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কর্তৃক গঠিত একটি পরিত্যক্তকরণ কমিটির (কনডেমনেশন কমিটি) অনুমোদন প্রয়োজন।
উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ভবনের মালামালের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা এবং ভাঙার খরচ ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, সঙ্গে ন্যূনতম দর নির্ধারিত ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।
২০২৫ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর নাসরিন আক্তার ডিসেম্বরে কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই ভবনটি ভাঙার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ। এরপর ভবনের দরজা, জানালা, রড ও ইট বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১৯ জুলাই একটি পরিত্যক্তকরণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ১০-১২ দিন ধরে ধাপে ধাপে ভবনটি ভাঙা হয় এবং রাতের আঁধারে মালামাল সরিয়ে ফেলা হয়।
এ বিষয়ে ইউএনও নাসরিন আক্তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ)-কে দায়িত্ব দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
মতামত দিন