Views Bangladesh Logo

এক আসামির জামিনের কাগজ দেখিয়ে অন্য আসামির পলায়ন, বরখাস্ত ৬ কারারক্ষী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে অন্য এক আসামির জামিনের কাগজ দেখিয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছেন হৃদয় মিয়া (২৮) নামে এক হাজতি। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছয় কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ হাজতি ও দুই কয়েদির বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।

পলাতক হৃদয় মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার নিমবাড়ি মধ্যপাড়ার মুজিবুর মিয়ার ছেলে। গত মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক ছগির মিয়া শনিবার জেলা কারাগার পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, অন্য এক আসামির জামিনের কাগজ ব্যবহার করে হৃদয় মিয়া কারাগার থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছয় কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া কারারক্ষীরা হলেন—মোরশেদ আলম, ফটক কারারক্ষী মো. হানিফ, মুক্তি শাখার কারারক্ষী সাহাব উদ্দিন, ভর্তি শাখার ইনচার্জ ও কারারক্ষী রবিউল আলম, কারাভ্যন্তর গোয়েন্দা শাখার কারারক্ষী জাহিদ হাসান এবং আইসিটি শাখার কারারক্ষী আবু খায়ের।

বৃহস্পতিবার জেলা কারা সুপার ওবায়দুর রহমান বিষয়টি লিখিতভাবে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত (নবীনগর)কে অবহিত করেন। একই দিন কারাগারের জেলার মনজুরুল ইসলাম সাতজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—পলাতক হাজতি হৃদয় মিয়া (২৮), নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা হাজতি দিদার হোসেন (২৮), নান্দুরা পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা হাজতি বিল্লাল মিয়া (২২), সদর উপজেলার পাঘাচংয়ের বাসিন্দা কয়েদি মো. পলাশ হোসেন (২৫), কসবা উপজেলার কোন্নাবাড়ির বাসিন্দা কয়েদি আক্তার হোসেন ওরফে ছোটন (৩০), সিলেটের মোগলাবাজার সুলতানপুর এলাকার হাজতি শিপন মিয়া (৪৫) এবং কসবার সোনারগাঁও এলাকার হাজতি মনির হোসেন (৫৫)। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান জানান, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং এ ঘটনায় ছয় কারারক্ষীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাই আলাদা করে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রয়োজন নেই।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ