জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ প্রস্তাব গৃহীত
বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি (Culture of Peace) বিষয়ক ঘোষণা ও কর্মসূচির বাস্তবায়নের অগ্রগতি’ শীর্ষক প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনে গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। এ প্রস্তাবের মাধ্যমে সংলাপ, সহনশীলতা, সংহতি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার আবারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক বৈঠকে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। প্রস্তাব উপস্থাপনকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে অব্যাহত সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জাতিসংঘ সনদের মূলনীতির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার অপরিহার্য।
তিনি প্রস্তাবটির প্রতি ব্যাপক সমর্থন এবং গঠনমূলক অংশগ্রহণের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে বিভাজনের পরিবর্তে সংলাপ, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা এবং অসহিষ্ণুতার পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের উদ্যোগে ১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপর থেকে গত প্রায় আড়াই দশক ধরে এটি শান্তি, সহনশীলতা, অহিংসা ও বহুত্ববাদের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
এ প্রস্তাব বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা, সামাজিক সংহতি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সংঘাত প্রতিরোধ, টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মতামত দিন