রোহিঙ্গা সহায়তায় যৌথ প্রতিশ্রুতি যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতি সহায়তা জোরদার করার অঙ্গীকার জানিয়েছে যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব। দুই দেশ যৌথ মানবিক সহযোগিতা ও সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে।
সৌদি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার (কেএসরিলিফ) ও ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা কক্সবাজারে যৌথভাবে সমর্থিত মানবিক কর্মসূচি পর্যালোচনায় প্রথমবারের মতো একসঙ্গে সফর শেষ করার পর এই প্রতিশ্রুতির কথা জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সফরকালে প্রতিনিধিদল মানবিক সহযোগী সংস্থা এবং রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং খাদ্যনিরাপত্তা সহায়তা ও পানি-স্যানিটেশন-স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) সেবা–সংক্রান্ত প্রকল্পগুলো ঘুরে দেখেন।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও ইন্টিগ্রেটেড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট এফোর্টসহ (আইএসডিই) বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে যৌথভাবে ৭৮ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব।
কেএসরিলিফের অপারেশনস অ্যান্ড প্রোগ্রামসবিষয়ক সহকারী মহাপরিচালক প্রকৌশলী আহমেদ বিন আলি আল-বাইজ বলেন, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়নবিষয়ক দপ্তরের (এফসিডিও) সঙ্গে অংশীদারত্বকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। তার ভাষায়, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়িত করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়াই তাদের উদ্দেশ্য, আর যুক্তরাজ্যের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাঁদের আশ্রয়দাতাদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক বলেন, বিশ্বজুড়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী, আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দিতে কেএসরিলিফের সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে পেরে যুক্তরাজ্য গর্বিত। তিনি বলেন, এই সফর দুই দেশের ক্রমাগত গভীর হতে থাকা মানবিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা কমিউনিটির জন্য যুক্তরাজ্য এ পর্যন্ত ৪০ কোটি পাউন্ডের বেশি সহায়তা দিয়েছে। মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা এখনো কক্সবাজারের শরণার্থীশিবিরগুলোয় অনিশ্চিত জীবন যাপন করছেন, যাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের কোনো সুস্পষ্ট পথ এখনো তৈরি হয়নি।
মতামত দিন