Views Bangladesh Logo

শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেনের মৃত্যুতে উদীচী-ছাত্র ইউনিয়নের শোক, কাল শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা

উদীচীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, সাবেক নাট্য সম্পাদক, ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। আগামীকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁর মরদেহে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন। পরে সিরাজগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে তাঁকে সমাহিত করা হবে।

উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম এক শোকবার্তায় বলেন, আখতার হুসেনের প্রয়াণে দেশের শিশু সাহিত্যজগৎ ও প্রগতিশীল আন্দোলনের ক্ষেত্রে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হলো।

উদীচীর নেতারা জানান, ১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর নাটোরের লালপুর উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামে জন্ম নেন আখতার হুসেন। ছোটবেলা থেকেই প্রগতিশীল আদর্শে বিশ্বাসী আখতার হুসেন ষাটের দশকে পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৮ সালে সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্তসহ প্রগতিশীল সংগঠকদের উদ্যোগে উদীচী প্রতিষ্ঠার সময় তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি।

১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে উদীচীর জনপ্রিয় বেশির ভাগ পথনাটকের রচয়িতা ছিলেন আখতার হুসেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য পথনাটকের মধ্যে রয়েছে ‘আলো আসছে’, ‘আসাদের শার্ট’, ‘শপথ নিলাম’ ও ‘সামনে লড়াই’।

স্বাধীনতার পর উদীচীর কেন্দ্রীয় নাট্য সম্পাদকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন আখতার হুসেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত তাঁর লেখা এবং সুরকার অজিত রায়ের সুরে শিল্পী তিমির নন্দীর গাওয়া ‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে জাগছে বাঙালিরা/ আজ রুখবে তাদের কারা’ গানটিও তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের একটি।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সংগীত ‘আমরা তো ঐক্যের দৃঢ়বলে বলীয়ান, শোষণের কারাগার ভাঙবই’ গানটিও রচনা করেন আখতার হুসেন। তাঁর মৃত্যুতে ছাত্র ইউনিয়নও গভীর শোক জানিয়েছে।

সাদাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত আখতার হুসেন শিশুদের জন্য অসংখ্য সাহিত্য রচনা করেছেন। পেশাগত জীবনে দৈনিক সংবাদ, দৈনিক জনকণ্ঠ, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন তিনি। বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন আখতার হুসেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে প্রথমে তাঁকে ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বারডেম হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আখতার হুসেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

তেজগাঁওয়ে নিজ বাসভবনের কাছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আখতার হুসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। রাতে বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে মরদেহ রাখার পর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে।

উদীচী ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা আখতার হুসেনের পরিবার ও শোকসন্তপ্ত স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ