Views Bangladesh Logo

নারী দলের সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার হাতছানি

ইতিহাসে প্রথমবার নারী এশিয়ান কাপে খেলেছে বাংলাদেশ। মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ খেলে একটিতেও জিততে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। এই টুর্নামেন্টে নারী দলের সামনে বিশ্বকাপে খেলার হাতছানি ছিল। কিন্তু অভিষেক টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতাটা সুখকর হলো না তাদের। এবার আরেকটি নারী এশিয়ান কাপের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে থাইল্যান্ডে পর্দা উঠতে অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের। এই টুর্নামেন্টেও প্রথমবার খেলছে বাংলাদেশ। এখানে ভালো করতে পারলে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে নারী দল। কারণ- টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠা চারটি দল বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।

বিশ্বকাপের হাতছানি থাকলেও এশিয়ান কাপ অনূর্ধ্ব-২০ কাপে কঠিন গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও চীন। বুধবার টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিন ব্যাংককের থাম্মাস্যাট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মিশন শুরু হবে আফঈদা, প্রীতিদের। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। পাশাপাশি তিন গ্রুপের সেরা তৃতীয় হওয়া দুটি দলও নকআউট পর্বে খেলার টিকিট পাবে।

সিনিয়র দলের কোচ পিটার বাটলারের অধীনেই খেলছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল। শুধু তাই নয়, সিনিয়র এশিয়ান কাপে নেতৃত্ব দেওয়া আফঈদা খন্দকার এই বয়সভিত্তিক দলেরও অধিনায়ক। তার সঙ্গে সিনিয়র দলের আরো বেশ কিছু খেলোয়াড় ফুটবল অনূর্ধ্ব-২০ দলে আছেন। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে এশিয়ান কাপে ভালো কিছু করতে চায় বাংলাদেশ। সিনিয়র এশিয়ান কাপে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে দেবে বলে মরেন করেন বাংলাদেশ দলের কোচ পিটার বাটলার। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে এই ইংলিশ কোচ বলেন, ‘মাত্র সিনিয়র এশিয়ান কাপ শেষ করে এখানে এসেছি আমরা। আমাদের সঙ্গে অনেক তরুণ খেলোয়াড় এসেছে। তাদের জন্য প্রথম অভিজ্ঞতা হবে। এখানে আসতে পারাটা তাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। আমি আশা করি, এটি মেয়েদের জন্য একটি চমৎকার শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা হবে এবং তারা এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট থেকে কিছু শিখতে পারবে।’ জুনিয়র ও সিনিয়র খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে বর্তমান দলটি দারুণ সম্ভাবনাময় বলে জানান বাটলার। তিনি বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-২০ দলের ১০ থেকে ১২ জন তরুণ খেলোয়াড়কে সিনিয়র এশিয়ান কাপে নিয়েছিলাম। কারণ- তারা জাতীয় দলের কার্যক্রমের সঙ্গেই ছিল। আমরা কিছু ম্যাচে হেরেছি ঠিক। তবে এই যাত্রায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয় উঠে এসেছে।’

টুর্নামেন্টের ভেন্যু থাইল্যান্ডের পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন কোচ বাটলার। তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় এই তরুণীদের নিজেদের সেরাটা দেওয়ার এবং অকৃত্রিম থাকার ওপর জোর দিয়েছি। এখানে থাইল্যান্ডে ভালো মানের পিচ, প্রশিক্ষণের সুব্যবস্থা এবং খেলার দারুণ পরিবেশ রয়েছে। তাদের ফুটবলের একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে এবং তারা নারী দলের প্রতি খুবই সমর্থনশীল। আমি চাই বাংলাদেশও তাদের নারী ফুটবল দলের প্রতি আরও বেশি সহায়ক হোক এবং এর ওপর আরও গুরুত্ব দিক। কারণ এখানে সম্ভাবনা বিশাল। আর দিনশেষে, এটি মূলত সংখ্যারই খেলা।’ বাটলার আরো বলেন, ‘আশা করি, মেয়েরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবল খেলবে। আমার মনে হয়, সিনিয়রদের জাতীয় টুর্নামেন্টে তারা যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তা আমাদের ভালো অবস্থানে রাখবে। ফলাফলের কথা চিন্তা না করে আমরা কিছু ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখতে পাবো।’ গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ৪ এপ্রিল চীনের বিপক্ষে। এরপর ৭ এপ্রিল ভিয়েতনামের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ১৮ এপ্রিল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ রয়েছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ