ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে মারধর, রাকসুর জিএস আম্মারের বিচার দাবি দুই শিক্ষার্থীর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দীন আম্মার ও শিবির নেতাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দিয়ে মারধর, হয়রানি ও মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলেছেন দুই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সঙ্গে মিথ্যা সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে হামলা ও মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. আনাস আহমেদ ও আবুল হাসান। এ সময় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আবুল হাসান জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে, যে মামলায় তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তিনি কখনও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে দাবি করেন।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যদি প্রমাণ হয় যে আমি ছাত্রলীগ করেছি, তাহলে আমার প্রশ্ন আমি কবে ছাত্রলীগ করলাম? ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আমি রাজশাহীতে এসেছি। শুধু পড়াশোনার উদ্দেশ্যেই এখানে এসেছি। তাহলে আমাকে কেন ছাত্রলীগের ট্যাগ দেওয়া হলো এবং কেন আমার ওপর হামলা করা হলো এসবের জবাব চাই। সালাহউদ্দীন আম্মারের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আমি যে অত্যাচারের শিকার হয়েছি, তার আসল কারণ কী প্রশাসনের কাছে আমি এর জবাব চাই।’
অন্য ভুক্তভোগী আনাস আহমেদ বলেন, ‘ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’ ক্যাম্পাসে ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের আধিপত্য থাকলেও তিনি কখনও সংগঠনটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘সরকারি দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে তখন বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার সুযোগ ছিল। তবু কোনও অবস্থাতেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করে পড়াশোনা করেছেন বলে জানান আনাস। তিনি বলেন, ‘আমি যদি ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকতাম, তাহলে ৫ আগস্টের পরও কীভাবে নিয়মিত ক্যাম্পাসে অবস্থান করলাম?’
আনাসের অভিযোগ, গত ১৬ জুলাইয়ের পর একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হয় এবং এ বিষয়ে জানতে তিনি প্রক্টরের কার্যালয়ে গেলে সেখানে বিভিন্ন ধরনের ‘ছাত্রলীগের ট্যাগ’ দিয়ে সালাউদ্দীন আম্মার তার ওপর হামলা চালান বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘তাহলে মিথ্যা অভিযোগে আমাকে কেন ২২ দিন জেলে থাকতে হলো? এর ক্ষতিপূরণ কে দেবে? এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করছি।’
এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও জিএস সালাউদ্দীন আম্মারের সাড়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ১০ আগস্ট রাকসু ভবনে হামলার ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেন জিএস সালাহউদ্দীন আম্মার। ওই মামলায় আসামি করা হয় ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস, সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ও মামুন মিয়া, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজুল ইসলাম নয়ন এবং ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আজহারুল ইসলামকে।
মতামত দিন