টঙ্গীতে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপ, ২ যাত্রী আহত
সিলেট থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই যাত্রী আহত হয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় টঙ্গী জংশনের অদূরে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের একজন কিশোর, অন্যজন মধ্যবয়সী যাত্রী। ঘটনার পর ট্রেনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহতরা হলেন আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামের ফাহিম মিয়া (১৪) এবং বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের সেজামুড়া গ্রামের লিটন মিয়া (৫০)।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, আশুগঞ্জ থেকে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসে ওঠেন ফাহিম ও তার বড় ভাই। ফাহিম জানালার পাশে বসে ছিলেন। ট্রেনটি টঙ্গী জংশনের কাছাকাছি পৌঁছালে বাইরে থেকে ছোড়া একটি পাথর জানালার কাচ ভেদ করে ভেতরে ঢুকে প্রথমে অপর এক যাত্রীর মাথায় আঘাত করে। পরে সেটি ফাহিমের গলায় আঘাত হানে। এতে তিনি ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েন এবং কিছু সময় কথা বলতেও অসুবিধা হয়।
একই ঘটনায় আহত লিটন মিয়া জানান, তিনি মুকুন্দপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেছিলেন। পাথরের আঘাতে তার মাথায় চোট লাগে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকায় সিটিস্ক্যান করানোর কথা রয়েছে।
ট্রেনটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে পুলিশের এক সদস্য জানান, যাত্রার আগে নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রীদের জানালা বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে প্রচণ্ড গরমের কারণে অনেকেই জানালা খোলা রাখেন। সেই সুযোগেই বাইরে থেকে পাথর নিক্ষেপ করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন রেলপথে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট রুটে একাধিকবার এমন ঘটনায় যাত্রী আহত হওয়ার পাশাপাশি গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে। এ কারণে রেলপথে নিরাপত্তা জোরদার এবং পাথর নিক্ষেপকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা।
মতামত দিন