ভোর থেকে দুই এলএনজি টার্মিনাল চালু, বাড়ল গ্যাস সরবরাহ
ভাসমান টার্মিনালগুলো থেকে সরবরাহ বাড়ায় দেশের গ্যাস সংকট কিছুটা কমেছে। সামিট এলএনজি টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হওয়ায় শনিবার ভোর থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে।
এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার ভোর ৪টা থেকে সামিটের টার্মিনাল থেকে ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট করে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে।
এই বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান জানান, দুটি টার্মিনাল থেকেই বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ চালু রয়েছে। সরবরাহ বাড়ায় গ্রাহকরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে থাকা দুটি বয়লারের প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। তবে একটি বয়লার আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অপর বয়লারটি দিয়ে ৬ আগস্ট থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। কারিগরি ত্রুটির কারণে শুক্রবার বিকেল ৪টায় এই টার্মিনালটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে মেরামত শেষে ওই অক্ষত বয়লারটি থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, এলএনজি সংকটের কারণে গত সোমবার থেকে সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার সরবরাহ নেমে আসে ২০ কোটি ঘনফুটে। এরপর বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা হয়, যা বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে শুক্রবার বিকেলে বঙ্গোপসাগরে ‘ভিটল’ কোম্পানির একটি এলএনজিবাহী জাহাজ পৌঁছালে সন্ধ্যা সাতটা থেকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি খালাস কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগেই সন্ধ্যা ৬টা থেকে টার্মিনালের জমা রাখা মজুত থেকে সাড়ে ৯ কোটি ঘনফুট করে গ্যাস দেওয়া শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। যা ভোররাতে বেড়ে ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়।
দেশে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। সাধারণত ৩০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হলে সব খাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়। তবে স্বাভাবিক সময়েও রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হয়, যার মধ্যে এলএনজি খাত থেকেই আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।
শুক্রবার বিকেলে এক্সিলারেটের টার্মিনালটি হুট করে বন্ধ হয়ে গেলে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ কমে মাত্র ১৭৩ কোটি ঘনফুটে নেমেছিল। তবে দুটি টার্মিনাল পুনরায় চালু হওয়ায় সরবরাহ বেড়ে বর্তমানে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে।
মতামত দিন