নৌকায় দুই নৃত্যশিল্পীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের কথা বলে ডেকে নিয়ে এক নাবালিকাসহ দুই নৃত্যশিল্পীকে নৌকার কেবিনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় তিতাস নদীতে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দুই নারী কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা। তারা বিভিন্ন স্থানে চুক্তির ভিত্তিতে পেশাগতভাবে নাচ পরিবেশন করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রাকিব মিয়া নামে এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নাচের পেজে যোগাযোগ করে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে শাহবাজপুর এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের জন্য তাদের সঙ্গে ৯ হাজার টাকায় চুক্তি করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছালে রাকিব ও তার সহযোগীরা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাদের শাহবাজপুরের একটি সেতুর নিচে নিয়ে যান। সেখান থেকে দ্রুত বিয়ের অনুষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাদের ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকায় তোলা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝখানে পৌঁছানোর পর চালক ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন। এরপর রাকিব ও তার সহযোগীরা দুই নারীকে নৌকার কেবিনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা এক পুরুষ সদস্য বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নদীর মাঝখানে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৮টার দিকে অভিযুক্তরা নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা এলাকায় তিতাস নদীর পাশের ভূঁইয়া ঘাটে দুই ভুক্তভোগীকে নামিয়ে দিয়ে চলে যান।
এরপর ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তার জন্য প্রথমে নাসিরনগর থানায় যান। তবে ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাধীন হওয়ায় তাদের সরাইল থানায় গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগীদের সরাইল থানায় গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগীরা সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় রাকিব মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলার পর অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের সুবিধার জন্য আপাতত গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। অন্যদের গ্রেপ্তারের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
মতামত দিন