লন্ডনে কাউন্সিল নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই প্রার্থীর জয়
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লন্ডনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাউন্সিলে ল্যান্ডমার্ক বিজয় অর্জন করেছেন দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে এসপায়ার পার্টির লুৎফুর রহমান এবং নিউহাম কাউন্সিলে লেবার পার্টির ফরহাদ হোসেন নির্বাহী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায়, বাংলাদেশি অধ্যুষিত এই এলাকাগুলোতে প্রবাসী প্রার্থীদের আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে।
নিউহাম কাউন্সিলে লেবার পার্টির প্রার্থী ফরহাদ হোসেন ২৫ হাজার ৫৩৮ ভোট পেয়ে এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। যুক্তরাজ্যের মূলধারার কোনো বড় রাজনৈতিক দল থেকে মনোনীত প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নির্বাহী মেয়র হিসেবে তিনি এই গৌরব অর্জন করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিউহাম ইনডিপেনডেন্ট পার্টির কামরান মালিক পেয়েছেন ২০ হাজার ২৩৪ ভোট। এই কাউন্সিলে মোট আটজন প্রার্থীর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত গ্রিন পার্টির প্রার্থী আরিক চৌধুরী, যার প্রাপ্ত ভোট ১৮ হাজার ৯৯৯।
অন্যদিকে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে লুৎফুর রহমান তার জনপ্রিয়তা ধরে রেখে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মোট ৩৫ হাজার ৬৭৯ ভোট পেয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টির সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৫৪ ভোট। এই কাউন্সিলে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন গ্রিন পার্টির প্রার্থী হিরা খান আদেওগান। লুৎফুর রহমান ও সিরাজুল ইসলাম ছাড়াও এই কাউন্সিলে আরও দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহাম, বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম এবং রেডব্রিজসহ মোট ১৩৬টি স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের এই নির্বাচনে অংশ নেন বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রার্থী। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলীয়ভাবে এই নির্বাচনের ফলাফল প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির জন্য উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, লেবার পার্টি তাদের প্রথাগত শক্ত ঘাঁটিগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন হারিয়েছে।
বিপরীতে নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে এগিয়ে রয়েছে ডানপন্থী নেতা নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রিফর্ম ইউকে ইতিমধ্যে প্রায় ৪০০ কাউন্সিল আসনে জয়লাভ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চমকে দিয়েছে। স্থানীয় সরকারের এই ফলাফল যুক্তরাজ্যের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে