চুরির অপবাদে তরুণীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে চুরির অপবাদ দিয়ে এক তরুণীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে মারধরের পর তার গলায় জুতার মালা পরানো ও মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে সখিপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে আফসানা সরদার ও আমির নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ছৈয়ালকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার নির্যাতনের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় কয়েকজন নারী তাকে মারধর করছেন। পরে তার গলায় জুতার মালা পরানো হয় এবং একপর্যায়ে মাথার কিছু চুল কেটে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় মুদি দোকানের মালিক মনির হোসেন মোল্লা ওই তরুণীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন। ঘটনার দিন তিনি তরুণীকে কুপ্রস্তাব দিলে তিনি প্রতিবাদ করেন এবং বিষয়টি পরিবারকে জানানোর কথা বলেন। এরপরই তার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, প্রথমে তরুণী ও তার ১২ বছর বয়সী বোন এবং ৮ বছর বয়সী ভাইকে পাশের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যানটিনে আটকে রাখা হয়। পরে তাঁদের ভাড়া বাসার মালিকের একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে তরুণী ও তার ছোট বোনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী তরুণীর ভাষ্য, প্রতিবাদ করার কারণেই তাকে চুরির মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। পরে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর, গলায় জুতার মালা পরানো এবং চুল কেটে দেওয়া হয়।
তরুণীর মা অভিযোগ করেন, নির্যাতনের পর অভিযুক্তদের স্বজনদের হুমকির কারণে তারা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
তবে অভিযুক্ত মনির হোসেন মোল্লা তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তরুণীর বাড়িওয়ালা তাঁকে নির্যাতন করেছেন এবং তিনি শুধু তাদের নির্দেশে তরুণীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে দিয়েছিলেন।
এদিকে তরুণীর বাড়িওয়ালার স্বামীও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে পরে তিনি বলেন, ঘটনাটি ঠিক হয়নি এবং দোকানদারের কথায় তার স্ত্রীসহ অন্যরা এমন কাজ করেছেন।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তরুণী ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। মামলার পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মতামত দিন