দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ অভিযান থেকে তুরস্কের বিদায়
দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে বড় স্বপ্ন দেখেছিল তুরস্ক। আর্দা গুলের, হাকান চালহানগ্লু ও কেনান ইলদিজদের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া দলটিকে অনেকেই এবারের আসরের সম্ভাব্য চমক হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। কিন্তু গ্রুপ পর্বের মাত্র দুই ম্যাচেই শেষ হয়ে গেল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।
‘ডি’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ১০ জনের প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তুরস্কের। এর ফলে হাইতির পর দ্বিতীয় দল হিসেবে ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল তারা। ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় তুরস্ক। খেলা শুরুর মাত্র ৬৪ সেকেন্ডের মাথায় মাতিয়াস গালারজার গোলে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। এরপর পুরো ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখালেও গোলের দেখা পায়নি তুর্কিরা।
পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচে ৭২ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল তুরস্ক। প্যারাগুয়ের গোলমুখে তারা ২৪টি শটও নেয়। কিন্তু আক্রমণভাগের ব্যর্থতা এবং দুর্বল ফিনিশিংয়ের কারণে কোনো সুযোগই কাজে লাগাতে পারেনি দলটি। দ্বিতীয়ার্ধে প্যারাগুয়ের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায়। দলের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন ফিফার নতুন নিয়ম ভঙ্গ করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। ফলে পুরো দ্বিতীয়ার্ধ ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় প্যারাগুয়েকে। তবে একজন বেশি খেলোয়াড় নিয়েও গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয় তুরস্ক।
এই হারের ফলে গ্রুপ ‘ডি’-তে দুই ম্যাচ শেষে তুরস্কের পয়েন্ট শূন্য। অন্যদিকে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট করে। ফলে শেষ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে হারালেও তুরস্কের পয়েন্ট হবে সর্বোচ্চ ৩। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ে নিজেদের মধ্যে খেলবে বলে অন্তত একটি দল ৪ বা তার বেশি পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করবে। এ কারণে কোনো গাণিতিক সমীকরণেই আর শেষ ষোলোয় ওঠার সুযোগ নেই তুরস্কের।
বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে আসা তুরস্ক শেষ পর্যন্ত হতাশাই উপহার দিল সমর্থকদের। টুর্নামেন্টের শুরুতেই বিদায় নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাদের এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় হতাশা হিসেবে উল্লেখ করছেন।
মতামত দিন