ট্রাম্পের শুল্ক দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে: জাহিদ হোসেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ও জাতীয় শ্বেতপত্র কমিটির সদস্য ড. জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরেছে, কর্মচাঞ্চল্যও বেড়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ম্যাক্রোইকোনমিক চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক আলোচনায় এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানটি ছিল মোয়াজ্জেম হোসেন স্মারক বক্তৃতার অংশ।
ড. জাহিদ হোসেনের মতে, এই স্থিতিশীলতার পেছনে প্রধান কারণ হলো অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ক্ষমতাচ্যুত হওয়া। ফলে দেশ থেকে অর্থপাচার বন্ধ হয়েছে, হুন্ডি কমেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা এখন বৈধ পথে দেশে আসছে। পাশাপাশি ব্যাংক লুটপাটও বন্ধ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেসব সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে, সেগুলোও বাংলাদেশের পক্ষে গেছে। বিশেষ করে ডলারের দাম কমে যাওয়া উল্লেখযোগ্য।
একটি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে তিনি জানান, ভারত ও চীনের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন যে হারে শুল্ক আরোপ করেছে, তাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের সামনে মার্কিন বাজারে ২০৫ কোটি ডলারের বেশি রপ্তানি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের ওপর ৩০ শতাংশ কম শুল্কারোপ করায় অতিরিক্ত ১২০ থেকে ২০৭ কোটি ডলার রপ্তানির সুযোগ এসেছে। আর চীনের ওপর বাড়তি শুল্কের কারণে বাংলাদেশ থেকে ৭ থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলার বেশি রপ্তানি হতে পারে মার্কিন বাজারে।
তিনি আরও বলেন, সার্বিকভাবে বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশের ফাঁদে আটকে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, দুর্বল ব্যাংক খাত, লজিস্টিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, শ্রমবাজারের উন্নয়ন না হওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়ই এর প্রধান কারণ।
সংস্কার কার্যক্রম প্রসঙ্গে ড. জাহিদ বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই যে সংস্কার বাস্তবায়িত হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। সংস্কার কার্যকর করার জন্য রিফর্ম ডেলিভারি ক্যাপাসিটি থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে উপদেষ্টা পরিষদ, প্রশাসন, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের যৌথ বা সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই চার পক্ষ একসঙ্গে কাজ না করলে সংস্কার কোথাও না কোথাও আটকে যাবে।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে