শেষ মুহূর্তের গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে স্তব্ধ করল তুরস্ক
পুরো ম্যাচ জুড়ে মাঠের পরিসংখ্যান যাই বলুক না কেন, ফুটবলের আসল রোমাঞ্চ যে কেবল গোলেই সীমাবদ্ধ—তা আবারও প্রমাণিত হলো। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্বের এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দিয়েছে তুরস্ক। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করে আমেরিকানদের স্তব্ধ করে দেয় তুর্কিরা।
ম্যাচের প্রায় প্রতিটি বিভাগেই একচেটিয়া আধিপত্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। ৫৩ শতাংশ বল পজেশন, তুরস্কের ১০টি শটের বিপরীতে ১৯টি শট এবং কর্নারে ৯-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্বাগতিকদের। যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের তোড় সামলে অবিশ্বাস্য কার্যকারিতা দেখিয়েছে তুরস্ক। পুরো ম্যাচে মাত্র ১০টি সুযোগ তৈরি করে তারা গোল আদায় করেছে ৩টি; বিপরীতে ১৯টি শট নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র জালের দেখা পেয়েছে মাত্র দুবার।
ডালাসের কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারিকে উল্লাসে ভাসিয়ে ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটেই প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি তুর্কিরা। পাল্টা আক্রমণে ১০ম মিনিটে সমতা ফেরানোর পর ৩১তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে তুরস্ক।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই (৪৯ মিনিটে) ঘুরে দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। গোল করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরিয়ে এনে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে অল-আউট আক্রমণে যায় তারা। বেঞ্চ থেকে পাঁচজন খেলোয়াড় বদলানো, একের পর এক কর্নার আদায় এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে প্রচণ্ড চাপ তৈরি করেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল আসছিল না। উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা পাঁচবার অফসাইডের ফাঁদে পড়েন।
তুরস্ক ডিফেন্সে তাদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখে সঠিক সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। অবশেষে ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে ৯০তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে তারা সেই কাঙ্ক্ষিত গোলটি পেয়ে যায়।
৯০তম মিনিটের সেই জয়সূচক গোলটি মুহূর্তে স্তব্ধ করে দেয় পুরো ডালাস স্টেডিয়ামকে। তুরস্কের এই ঐতিহাসিক জয়ে গোলপোস্টের নিচে পুরো ম্যাচ জুড়ে ৪টি চমৎকার সেভ করে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন উগুরকান চাকির। অন্যদিকে কাউন্টার অ্যাটাকগুলোতে ডিফেন্সের জন্য রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি করেছিলেন আরদা গুলের ও কেনান ইলদিজ। ম্যাচের শেষের দিকে বদলি হিসেবে নামা হাকান চালহানোগলু মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই ম্যাচটি একটি কঠিন শিক্ষা—মাঠে আধিপত্য বিস্তার করলেই যে জয় আসে না, ফুটবল মূলত গোলের খেলা। আর তুরস্কের জন্য এই জয় কেবল ৩ পয়েন্ট নয়, বরং তারা যে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার—সেই আত্মবিশ্বাসেরই এক বড় প্রমাণ।
মতামত দিন