ভারতে পরিবারের কাছে ফিরতে চান বাংলাদেশে পাচার হয়ে আসা সঙ্গীতা
সঙ্গীতা মণ্ডল। বয়স ১৪ বছর। সাত বছর আগে ভারত থেকে পাচার হয়ে আসেন বাংলাদেশে। এখন ঠিকানা হয়েছে বরিশাল। কাজ করছেন বরিশালের বিসিক শিল্প নগরীর বিসমিল্লাহ পলিমার ও প্যাকেজিংয়ে। ৭ বছর আগের সেই শিশুটি এখন কৈশোরে। ভিনদেশে এসে মাঝখানে ঘটেছে অনেক ঘটনা। দীর্ঘ সময় পার হলেও পরিবারে ফেরার আকুতি কমেনি সঙ্গীতার। এখনো অপেক্ষায় আছেন নিজ দেশে পরিবারের কাছে ফেরার।
সঙ্গীতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলকাতার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের ভুরগাছি গ্রামের মেয়ে সঙ্গীতা। বাবা গুরুপদ মণ্ডল, মা পার্বতী মণ্ডল ও চাচা রাহুল মণ্ডল। তার বয়স যখন সাতবছর তখন এক আত্মীয় তাকে গোপনে বাংলাদেশের মাদারীপুরের এক দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর বাংলাদেশে পাচার হয়ে আসেন সঙ্গীতা। সেসময় মাদারীপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় হাসপাতাল থেকে তাকে উদ্বার করা হয় তাকে।
বর্তমানে সঙ্গীতার কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনকারী প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ পলিমার ও প্যাকেজিংয়ের স্বত্বাধিকারী নাজমুন নাহার রিনার সঙ্গে কথা বলে জানা যায় আরও বিস্তারিত। তিনি বলেন, বরিশাল জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম এবং প্রশাসনের আবাসন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ- এর সহযোগিতায় সমাজসেবা দপ্তরের পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে কয়েকজন মেয়েকে আমার এই প্রতিষ্ঠানে কাজ দেয়া হয়েছে। তাদের একজন সঙ্গীতা মণ্ডল। সে এখানে কাজ করছে বটে তবে সবসময় মনমরা হয়ে থাকে। জিজ্ঞেস করলেই কান্নাকাটি করে। বাবা-মায়ের কাছে ফেরার আকুতি জানায়।
সঙ্গীতার বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসনের প্রবাসন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, সঙ্গীতাকে মাদারীপুর আদালতের মাধ্যমে আমরা নিয়ে আসি। তার সুন্দর জীবনের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখি। সেখান থেকে সে এখন স্বাবলম্বী হতে বরিশাল বিসিকের বিসমিল্লাহ পলিমারে কাজ করছেন। সে তার নিজ পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোন আত্মীয়-স্বজন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
ঘরে ফেরার আকুতি জানিয়ে সঙ্গীতা বলেন, আমার বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন কেউই তো জানেন না আমি কোথায় আছি। তাই তারা যোগাযোগও করতে পারছেন না। আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরতে চাই।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে