১২ দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চলছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশের সঙ্গে ১২টি দেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে আগামী এক মাসের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা জানান।
অনুষ্ঠানে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ ১২টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে।’
তিনি বলেন, ‘রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। একইসঙ্গে দেশে-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ ও মূলধন নিরাপদে নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগসহ ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। একইসঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে যে বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।’
আলোচনায় বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের হালাল পণ্যের বিপুল সম্ভাবনার বিপরীতে পিছিয়ে থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন বক্তারা। তারা জানান, বিশ্বব্যাপী হালাল পণ্যের বিশাল বাজারের আকার প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার হলেও সেখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনও ১ বিলিয়ন ডলারেরও নিচে। সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মূলত যথাযথ নীতিমালা, গবেষণা, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, দক্ষ জনশক্তি এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়নের অভাবে বাংলাদেশ এ খাতে প্রত্যাশিত অবস্থান তৈরি করতে পারছে না।
বক্তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে উৎপাদন থেকে শুরু করে মাননিয়ন্ত্রণ, সনদ প্রদান, রপ্তানি ও বিপণন– সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মতামত দিন