হত্যা মামলায় জামিন নামঞ্জুর, ফের কারাগারে তৌহিদ আফ্রিদি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আসাদুল হক বাবু হত্যার মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠালেন আদালত।
শনিবার (৩০ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এ আদেশ দেন।
পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আজ আদালতে হাজির করে আসামিকে ফের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান। আবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে আফ্রিদির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিপিইউ ও আইম্যাক জব্দ করা হয়েছে, যা আইটি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা দ্বারা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য ও প্রচার কার্যক্রম চালান তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আফ্রিদির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই চলছে। জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন এবং এতে মামলার তদন্তকাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।
শুনানিতে আসামিপক্ষ জামিন আবেদন করলেও রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তৌহিদ আফ্রিদির জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরদিন তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন মো. আসাদুল হক বাবু। দুপুর আড়াইটার দিকে আসামিদের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ওই ঘটনার এক বছর পর গত ৩০ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন। এতে শেখ হাসিনাসহ মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকে ২২ নম্বর এবং তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে ১১ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, একই মামলায় গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থেকে নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রিমান্ড শেষে ২৩ আগস্ট তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে