Views Bangladesh Logo

পানির নিচে পর্যটন শহর কক্সবাজার

ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজার শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দুই লাখেরও বেশি মানুষ। তবে এই জলাবদ্ধতার জন্য অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং স্থাপনা নির্মাণকেই দায়ী করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পৌর মেয়র।

বুধবার রাত ৩টা থেকে কক্সবাজার শহরে টানা বর্যণ হয়। এতে শহরের লিংক রোড, হাজিপাড়া, বিজিবি ক্যাম্প, আলিরজাহাল, রুমালিয়াছড়া, পিটিস্কুল, টেকপাড়া, পাহাড়তলী, বাহারছড়া, কলাতলী, কুতুবদিয়া পাড়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এর ফলে দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের পাশাপাশি কক্সবাজার বেড়াতে আসা পর্যটকদেরও ।

স্থানীয়দের অভিমত, কক্সবাজারে গত ১৫ বছরে অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং স্থাপনা নির্মাণ সহ নালা, খাল, নদী ভরাট করে দখল করার ফলেই এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি।

দক্ষিণ বাহারছড়ার বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, ভোর থেকে পানিবন্দি হয়ে আছে পুরো এলাকা। প্রায় দুই ফুটের মতো পানি উঠে আছে প্রতিটি ঘরে। এভাবে মুষলধারে বৃষ্টি হলে পানির অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। এখনো পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি এলাকায় তাঁদের খোঁজ নেয়নি বলেও জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচ এম নজরুল বলেন, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণের কারণে শহরের পানি নিষ্কাশনের সমস্ত রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। বড় বড় নালা এবং খাল ভরাট করে দখল করার ফলেই কক্সবাজারে আজকের এই জনদুর্ভোগ।

টুয়াকের সাধারণ সম্পাদক নুরুল করিম পাশা বলেন, সমস্ত হোটেল-মোটেল জোনের প্রায় সব রাস্তা এখন দুই ফুট পানির নিচে। যার ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয়দের পাশাপাশি কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকরাও। পানি নিষ্কাশনে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই সংকট আরও বাড়বে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহবুবুর রহমান মাবু বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয়দের এগিয়ে আসতে হবে। এই সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। একটু সময় দরকার।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কক্সবাজার জেলায় বুধবার দুপুর ৩টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ৩৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ