তনু হত্যা: গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহের পর তা মেলানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কল্যাণপুর সার্কেলের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
২০১৭ সালের মে মাসে তৎকালীন তদন্ত সংস্থা সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। সে সময় ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি হলেও সন্দেহভাজনদের সঙ্গে নমুনা মেলানো হয়নি। এবারই প্রথম কারও নমুনা মেলানোর জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে হাফিজুরকে আটক করেন পিবিআইয়ের সদস্যরা। এরপর তাঁকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল বুধবার বিকেলে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৫২ বছর বয়সী হাফিজুর রহমান ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন। তনু হত্যার সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল আদালতের তলবের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম কুমিল্লায় এসে মামলার অগ্রগতি জানানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনের ডিএনএ নমুনা মেলানোর আবেদন করেন। আদালত সে আবেদনে সম্মতি দেন। ওই তিনজনের একজন হাফিজুর, বাকি দুজন হলেন ঘটনার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম—তারাও বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। তবে মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের দাবি, সৈনিকের নাম শাহীন আলম নয়, জাহিদ।
তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম আজ বিকেলে জানান, হাফিজুরকে বুধবার কুমিল্লার আদালতে হাজির করার আগেই ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ডিএনএ মেলানোর কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছে সিআইডি, তবে ফলাফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হাফিজুরকে জিজ্ঞাসাবাদও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর ফেরেননি তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ তনুর মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করতে পারেনি।
এই হত্যাকাণ্ডে শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে পাওয়া নমুনায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। এ ছাড়া তনুর মায়ের সন্দেহ করা তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল, তবে তখন তাদের নাম গণমাধ্যমকে জানায়নি সিআইডি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে