আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস আজ
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস। কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পল্লি উন্নয়নে গ্রামীণ নারীর ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিতে প্রতিবছর এ দিনটি পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য 'প্রকৃতি মায়ের যত্নে গ্রামীণ নারী কৃষক'।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর এক প্রস্তাবের মাধ্যমে ১৫ অক্টোবরকে এ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। আদিবাসী নারীসহ গ্রামীণ নারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদান, কৃষি ও পল্লি উন্নয়নে তাঁদের অংশগ্রহণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য নির্মূলে তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়াই এর লক্ষ্য। প্রথমবার দিবসটি পালিত হয় ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর।
জাতিসংঘ নারী সংস্থা (ইউএন উইমেন) জানিয়েছে, এবারের প্রতিপাদ্যে গ্রামীণ নারীর প্রতিদিনের কাজকে সম্মান জানানো হয়েছে। তাঁরা বীজ সংরক্ষণ করেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করেন, পানি ব্যবস্থাপনা সামলান এবং ক্ষয়প্রাপ্ত জমি পুনরুদ্ধারে কাজ করেন। এভাবে তাঁরা সমাজের মুখে খাবার তুলে দেন, জীবিকা টিকিয়ে রাখেন এবং সবার নির্ভরশীল প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করেন।
তবে অবদানের তুলনায় গ্রামীণ নারীর অধিকার, সম্পদ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এখনো সীমিত বলে মনে করছে সংস্থাটি। তাদের মতে, গ্রামীণ নারীর জন্য জমি, পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বলবৎযোগ্য অধিকার দরকার। একই সঙ্গে দরকার অর্থায়ন, বাজার, প্রযুক্তি ও কৃষিসেবায় সমান প্রবেশাধিকার, শোভন কাজ, সামাজিক সুরক্ষা এবং টেকসই অবকাঠামো। গ্রামীণ নারীর অবৈতনিক পরিচর্যা কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তা কমানো ও সমভাবে ভাগ করে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।
ইউএন উইমেনের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ' এবং জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ও মরুকরণবিষয়ক তিনটি রিও কনভেনশনের এ বছরের বৈঠক স্বীকৃতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। কৃষিনীতি প্রণয়ন এবং জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য ও ভূমি পুনরুদ্ধারে তহবিল ব্যবহারের সিদ্ধান্তে গ্রামীণ নারীদের অংশ নেওয়া উচিত বলে মত সংস্থাটির।
এ প্রেক্ষাপটে সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী মহল ও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউএন উইমেন। গ্রামীণ নারীর ওপর সরাসরি বিনিয়োগ এবং তাঁদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও পরিবেশগত নেতৃত্বের পথের বাধা দূর করতে বলেছে তারা।
গ্রামীণ নারীরা কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে ঘর ও সমাজের নানা কাজে নিরলস শ্রম দিলেও তাঁদের বড় একটি অংশের কাজ এখনো অদৃশ্য ও অস্বীকৃত থেকে যায়। দিবসটি সেই বাস্তবতা বদলে অংশগ্রহণ ও সমতার দাবিকে সামনে আনার একটি সুযোগ বলে মনে করা হয়।
মতামত দিন