২০২৭ সালের বিনামূল্যের বই ছাপাতে ব্যয় হবে ৯৪৮ কোটি টাকা
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের লক্ষ্যে প্রায় ৯৪৮ কোটি টাকার চারটি ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর আওতায় প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি কপি বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দিতে এখন থেকেই মুদ্রণ কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহে ব্যয় হবে ৪০৪ কোটি টাকার বেশি। এ পর্যায়ে ৭ কোটি ৩৫ লাখেরও বেশি বই ছাপানোর দায়িত্ব পেয়েছে ৬৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান। মোট ১১০টি লটের মধ্যে ১০৬টি লটের কাজ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ইবতেদায়ি স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ কোটি ১৮ লাখের বেশি পাঠ্যপুস্তক ছাপাতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫৪ কোটি টাকা। এ কাজ বাস্তবায়ন করবে ৩৫টি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন, দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষার বই মুদ্রণে ব্যয় হবে প্রায় ১৮৪ কোটি টাকা। এ খাতে ৪ কোটি ১১ লাখের বেশি বই প্রকাশ করা হবে।
এ ছাড়া সপ্তম শ্রেণির মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহে ২০৬ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই কাজের দায়িত্ব পেয়েছে ৫৯টি প্রতিষ্ঠান।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি এই উদ্যোগের ফলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন সহজ হবে। একই সঙ্গে বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক কর্মসূচি নির্বিঘ্ন রাখতে মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মতামত দিন