Views Bangladesh Logo

৮০ লাখ টাকা আটকের খবর ‘গুজব’, দাবি বিএনপি প্রার্থী এ্যানীর

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

নিজের নির্বাচনী এজেন্টের গাড়ি থেকে ৮০ লাখ টাকা আটকের খবরকে সম্পূর্ণ ‘গুজব’ বলে দাবি করেছেন লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী ও বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী । তিনি জানান, নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে তার এজেন্টের গাড়িটি চেক করা হয় এবং গাড়িতে থাকা নির্বাচনী ব্যয়ের প্রায় ১৫ লাখ টাকা যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রমাণিত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ গাড়িটি ছেড়ে দেয়।

বুধবার ( ১১ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যার পর লক্ষ্মীপুরের ঝুমুর এলাকায় সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে তল্লাশির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, “নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে আমার এজেন্ট গাড়িটি নিয়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। পথে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ম অনুযায়ী গাড়িটি তল্লাশি করে। গাড়িতে কেন্দ্রভিত্তিক খরচ বাবদ প্রায় ১৫ লাখ টাকা ছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কর্তৃপক্ষ গাড়িটি ছেড়ে দেয়।”

​তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবেই গাড়িটি চেক করা হয়েছে। একটি মহল আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ভুল তথ্য ও গুজব ছড়াচ্ছে।”

ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা নির্বাচনী এজেন্ট বদরুল আলম শ্যামল বলেন, “বুধবার সন্ধ্যার পর ঝুমুর এলাকায় শুধু আমাদের গাড়িই নয়, আরও অনেক গাড়ি তল্লাশি করা হয়। আমাকে আটক করা হয়েছে কিংবা ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে—এ ধরনের তথ্য সঠিক নয়।”

তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।

ঝুমুর এলাকার ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বিকেল ৪টার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে চেকপোস্ট বসিয়ে অর্ধশতাধিক যানবাহনে তল্লাশি চালায়। এ সময় একটি কালো রঙের গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়, যেটিতে এ্যানী চৌধুরীর নির্বাচনী এজেন্ট শ্যামল ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তল্লাশির সময় গাড়ি থেকে কিছু টাকা পাওয়া যায়, যা প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে শোনা গেছে। তবে সেনাসদস্যরা শ্যামলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তাকে আটক করেননি। প্রায় এক ঘণ্টা পর গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হলে শ্যামলকে আবার সেই গাড়িতে উঠে চলে যেতে দেখা যায়।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, তাকে আটক বা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে যে কথা ছড়ানো হচ্ছে, তা গুজব।

​এই বিষয়টি স্পষ্ট করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহা. রেজাউল হক বলেন, “বিকেল থেকে ঝুমুর এলাকায় সেনাসদস্যদের একটি রেনডম চেকপোস্ট (আকস্মিক তল্লাশি চৌকি) বসানো হয়েছিল। সেখানে সব গাড়িই চেক করা হয়। তার মধ্যে এ্যানী চৌধুরীর নির্বাচনী এজেন্ট শ্যামলের গাড়িও ছিল। গাড়িতে ব্যাগভর্তি কিছু টাকা পাওয়া যায়।”
​তিনি আরও বলেন, “পরে যেহেতু ব্যাগে টাকা ছিল, সেনাসদস্যরা বিষয়টি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান। ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৫ লাখ টাকা পান। তিনি টাকাগুলো কোথায়, কোন কাজে খরচের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে—তার প্রমাণ পান। টাকার হিসাবে কোনো গরমিল না পাওয়ায় এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায়, কোনো প্রকার জরিমানা ছাড়াই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।”

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ