পদ্মা সেতুতে ৩৬ ঘণ্টায় ৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা টোল আদায়
পদ্মা সেতুর পরিচালক প্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব মো. আলতাফ হোসেন শেখ জানান, যানজট নিরসনে পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষ ‘বাস বে’। এখানে একসঙ্গে ১০-১৫টি বাস দাঁড়াতে পারায় টোল প্লাজার প্রবেশ মুখে যানবাহনের বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে না এবার।
ঈদুল আজহার ছুটিতে পদ্মা সেতুতে সর্বশেষ ৩৬ ঘন্টায় ৬৫ হাজার ৩২৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে সেতুর উভয় প্রান্তে ৭ কোটি ২৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৫০ টাকা টোল আদায় করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১২টা পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টায় সেতুর মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে এসব যানবাহন পারাপার হয়। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন পদ্মা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ। তিনি জানান, গতকাল দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ২৮ হাজার ৪১৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ বাবদ টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা।
অন্যদিকে সেতুর জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ১৫ হাজার ৫৯৩টি যানবাহন। এ বাবদ টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা। সব মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে মোট টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা। এর পর আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেতুর উভয় প্রান্তে ১২ ঘন্টায় পারাপার হয়েছে ২১ হাজার ৩২৪টি যানবাহন, এতে সেতুতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৬৪ হাজার ৪৪০ টাকা। ৩৬ ঘণ্টায় মোট আদায় হয়েছে ৭ কোটি ২৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯০ টাকা।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মাওয়া টোল প্লাজার সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ৪৫ দিনের বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ৩ সেকেন্ডে ১০টি গাড়ি টোল দিয়ে সেতু পারাপার হচ্ছে। এছাড়া মোটরসাইকেলের জন্য অস্থায়ী ৩টি পৃথক লেনসহ মোট ১০টি লেনে টোল আদায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
পদ্মা সেতুর পরিচালক প্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব মো. আলতাফ হোসেন শেখ জানান, যানজট নিরসনে পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষ ‘বাস বে’। এখানে একসঙ্গে ১০-১৫টি বাস দাঁড়াতে পারায় টোল প্লাজার প্রবেশ মুখে যানবাহনের বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে না এবার।
এক্সপ্রেসওয়েতে পুলিশের নিয়মিত টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজরদারির কারণে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
তিনি বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন এবার ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে।ঈদের ছুটির দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার সকাল থেকেই এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানের চাপ থাকলেও কোথাও গাড়ি থেমে থাকতে দেখা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কারণে এবার পদ্মা সেতু পার হতে যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না।
জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী জানিয়েছেন, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সিগঞ্জ প্রান্ত ও পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার ঘরমুখো মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটছেন। দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশপথ হিসেবে খ্যাত এই মহাসড়কটিতে ঈদ যাত্রাকে কেন্দ্র করে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি রয়েছে। তবে অতিরিক্ত চাপ থাকলেও দ্রুত সময়ের মধ্যেই যান পারাপার হচ্ছে পদ্মা সেতু দিয়ে।
তিনি জানান, প্রশস্ত ও আধুনিক এই মহাসড়কে কোথাও কোন দুর্ভোগ বা বিড়ম্বনা নেই। এতে বরাবরের মতোই স্বস্তিতে গন্তব্যে যাচ্ছে দক্ষিণের যাত্রীরা। গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মা সেতুর দুই প্রান্ত দিয়ে আশানুরূপ টোল আদায় হয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে