বন্ধ কারখানা সচলে ১৭ বাণিজ্যিক ব্যাংক দেবে ৪১ হাজার কোটি টাকা
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, বেসরকারি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ১৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। প্রণোদনা তহবিলে অর্থায়নে সম্মত ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, এনসিসি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংক।
এর আগে গত ২৩ মে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার এই বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে। অবশিষ্ট ১৯ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে সরবরাহ করার কথা রয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পকারখানা পুনরায় সচল করার জন্য। এ খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। এই তহবিল থেকে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ঋণের সুদের হার গড়ে সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এর আগে প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এটিকে ‘উৎপাদন ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার’ কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে অচল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনে ফিরলে বেসরকারি খাতে নতুন বিনিয়োগের পথও তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালু হলে শিল্প উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ উভয়ই বাড়বে। এর ফলে অর্থনীতিতে বিদ্যমান স্থবিরতা কাটিয়ে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানোর সুযোগ তৈরি হবে। ৬০ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল সেই লক্ষ্যেই কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মতামত দিন