Views Bangladesh Logo

প্রত্যেকের মাথার ওপর ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের দায় চেপে আছে: জ্বালানিমন্ত্রী

বিশ্বব্যাংক ও এডিবির অর্থায়নে নেওয়া তিনটি গ্যাস প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে গ্যাসের সরবরাহই পর্যাপ্ত নয়, এমন অবস্থায় নতুন ঋণ নিয়ে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা যৌক্তিক নয়।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) আয়োজিত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬–২০৩০)’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি বলেন, লাইনে গ্যাসই নেই, নতুন কোনো কূপ খনন বা গ্যাস উত্তোলন করা হয়নি, অথচ কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে প্রিপেইড মিটার লাগানো হচ্ছে—এ যেন ঘোড়া নাই, চাবুক কেনার মতো অবস্থা।

মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকের মাথার ওপর প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের দায় চেপে আছে। আমি আর নতুন কোনো ঋণের ফাঁদ তৈরি করতে চাই না। জনস্বার্থেই এই প্রকল্পগুলো বাতিল করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, অতীতে জনস্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যার ফলে দেশের জ্বালানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনঅসন্তোষ প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, জুন থেকে নতুন বিদ্যুৎ মূল্য কার্যকর হয়েছে। গরমের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অনেক গ্রাহকের বিল বেশি এসেছে।

এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।

দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ খাত সংস্কারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত, যাতে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। তবে বিদ্যুৎ বিতরণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো হলে দক্ষতা ও তদারকি আরও উন্নত হতে পারে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে এক হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা। এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হবে এবং সরকার উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই ফসলি জমি নষ্ট করে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র বা শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে না। পরিবর্তে রেলওয়ে, সড়ক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অব্যবহৃত জমিকে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ