Views Bangladesh Logo

রাজশাহীর ৩৯ আসনেই কঠোর নিরাপত্তা

রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এতে করে ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

বুধবার দুপুরে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।

বিভাগীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, নির্বাচন ও গণভোট একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এটি মাথায় রেখে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

তিনি জানান, রাজশাহীর ৮টি জেলা, ৬৭টি উপজেলা, ১টি সিটি কর্পোরেশন, ৬২টি পৌরসভা ও ৫৬৫টি ইউনিয়ন। প্রায় ১৮,১৫৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বসবাস করছেন প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ মানুষ। চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন।

ভোটকেন্দ্র ৫,২৮৭টির এর মধ্যে ১,৭৬৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বিভাগে ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ১০ হাজার, বিজিবি ৪,১২৩, রেঞ্জ পুলিশ ১৩,৭৯৬, আরএমপি ২,৪০৫, র‍্যাব ১,০০৬ এবং আনসার ৭২ হাজার ৭৩৬ জন। প্রতি আসনে গড়ে ২,৬৬৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ৫,২৬৬টি কেন্দ্রে সিসিটিভি ও ২,৩১৮টি বডি ওর্ন ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোরদার অভিযান চালানো হয়েছে। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৫৬টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ ৭৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪৩৩টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। একই সময়ে বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে ৪,৫৯৪টি।

বজলুর রশীদ জানান, নির্বাচনকালীন গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে কোর কমিটি সক্রিয় রয়েছে এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জয়েন্ট অপারেশন সেল চালু হয়েছে, যা ভোট-পরবর্তী সময় পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি মিডিয়া সেল থেকে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য প্রচার করা হচ্ছে ও হবে।



মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ