বিশ্বকাপের লড়াইয়ে শক্তিশালী ভারতের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে প্রস্তুত টাইগাররা
চলমান আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে জায়ান্ট ভারতের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় ২ টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ এ ম্যাচ।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ছয় উইকেটের জয় দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে টাইগাররা। তবে ইংল্যান্ডের কাছে ১৩৭ রান এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আট উইকেটে পরপর হারের কারণে তাদের গতি নষ্ট হয়েছে।
তবে এর সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান করছে ভারত। তারা প্রথম তিনটি ম্যাচ শক্তিশালী ভাবে জিতে সাফল্যের তুঙ্গে অবস্থান করছে। এবারের আসরে ভারতের জয়ের ধারাবাহিকতায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ছয় উইকেটের জয়, আফগানিস্তানের বিপক্ষে আট উইকেট এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে সাত উইকেটের জয়।
কাগজে কলমে এবং সাম্প্রতিক ফর্মের আলোকে ভারতকে ফেভারিট বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু উপমহাদেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের উপর সাম্প্রতিক আধিপত্যের কারণে আস্থার জায়গায় রয়েছে বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপের ঠিক আগে শ্রীলঙ্কায় এশিয়া কাপের স্মরণীয় ম্যাচসহ দুই দলের মধ্যে শেষ চারটি খেলার তিনটিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। তবে ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে টাইগারদের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে যখনই তারা তাদের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছে তখনই এটি তাদের আত্ন বিশ্বাস জুগিয়েছে। যদিও তারা প্রতিটি ম্যাচে জয়লাভ করতে পারেনি বাংলাদেশ। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যার ফলে ভারতীয় দল আতঙ্কিত রয়েছে।
ভারত টাইগারদের বিপক্ষে বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচের তিনটিতে জিতেছে। তবে ২০০৭ সালের ঐতিহাসিক ম্যাচ- যেখান থেকেই ক্রিকেটে টাইগারদের উত্থান হয়েছিল, তখন থেকেই আধিপত্য বজায় রেখে চলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে একটি বিতর্কিত 'নো বল' সিদ্ধান্ত বাংলাদেশী ভক্তদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী দাগ কেটে রেখেছে। যা এই দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে তীব্র করে তোলে।
পূর্ববর্তী ধাক্কা সত্ত্বেও, বাংলাদেশ তাদের সাম্প্রতিক আধিপত্য এবং ভারতের সাথে ঐতিহাসিক বৈরিতাকে একটি শক্তিশালী লড়াইয়ের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে চায়। এখন পর্যন্ত ৪০ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। এরমধ্যে বাংলাদেশের জয় ৮টিতে এবং হার ৩১টিতে। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।
এদিকে ছোট কোয়াড টিয়ার থেকে সেরে ওঠা অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ফিরে আসায় বাংলাদেশের মনোবল বেড়েছে। ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত সাকিব হতে পারেন গেম চেঞ্জার।
যদিও বাংলাদেশের ব্যাটিং গ্রুপ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। আসল উদ্বেগের বিষয় হল, তাদের ফাস্ট বোলারদের দুর্বল পারফরম্যান্স। তবে ভারত যখন প্রতিপক্ষ দল তখন তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, এবং তানজিদ হাসান সাকিব সকলেই এ ম্যাচে নিজেদের সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করবে। কারণ ভারতের বিপক্ষে এদের পারফরমেন্স প্রশংসনীয়। ফলে একটি উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী স্বাগতিকদের বিপক্ষে জয়ের মধ্য দিয়ে জয়ের পথে ফিরতে চায় বাংলাদেশ।
খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন যারা
রোহিত শর্মা
যদিও রোহিতের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাচ্ছে, তবুও তিনি চার বছর আগের মতোই প্রভাব দেখাতে চলেছেন। কারণ এই শর্মায় একটি বিশ্বকাপে পাঁচটি সেঞ্চুরি করে একটি রেকর্ড ভেঙেছিলেন। ২০২৩ বিশ্বকাপেও তিনি তার ব্যতিক্রমী ব্যাটিং দক্ষতা প্রদর্শন করছেন। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সাম্প্রতিক জয়ে, শর্মা সেঞ্চুরি করেছিলেন, যা বিশ্বকাপে তার সপ্তম। দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের আট উইকেটের জয় মূলত রোহিত শর্মার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণেই হয়েছে। তার ৬৩ বলে ৮৬ রান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সাম্প্রতিক জয়েরও একটি বড় কারণ ছিল। তিনিই এখন ২১৭ সহ টুর্নামেন্টের তৃতীয় শীর্ষস্থানীয় রান-স্কোরার।
সাকিব আল হাসান
চেন্নাইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে সাকিব আরও একবার তার তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। তিনি ৪০ রান করেন এবং মুশফিকুরের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গঠন করে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৩ তম ওভারের মধ্যে ৫৬ রানে যখন ৪ উইকেট তখন ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি বাংলাদেশকে একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেন। সে হিসেবে সাকিব পরের ম্যাচ খেলতে পারলে সে ম্যাচেও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারেন। এর আগে, এশিয়া কাপ ২০২৩ এ ভারতের বিপক্ষে ৮৫ বলে ৮০ রান করেছিলেন তিনি। তাই সাকিবের বিরুদ্ধে ভারতীয় বোলারদের সতর্ক থাকতে হবে।
মুশফিকুর রহিম
মুশফিক এমন কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যাটারদের একজন যারা কিছুটা ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫১ রান করার পর, তিনি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৬ রান করেন, যা সেই ম্যাচে বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল। সেই ম্যাচে তার সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৬৬ রান।
জাসপ্রিত বুমরাহ
তিনি ইতিমধ্যে আফগানদের বিপক্ষে ভালো করেছেন। সে ম্যাচে তার পারফরম্যান্স ছিল ব্যতিক্রমী। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে, জসপ্রিত বুমরাহ তার সেরা বোলিং পরিসংখ্যানের রেকর্ড করেন। যেখানে তিনি ৩৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। ফাইনাল ম্যাচে দুটি উইকেট নেওয়ার পর বুমরাহ বিশ্বকাপের উইকেট নেওয়ার তালিকার শীর্ষে থাকা মিচেল স্যান্টনার এবং ম্যাট হেনরির কাতারে নাম লেখান। যেখানে তিনটি ম্যাচে তাদের তিনজনের মধ্যে আট উইকেট ভাগাভাগি হয়েছে।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ:
তানজিদ হাসান, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মেহেদি হাসান মিরাজ, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), তৌহিদ হৃদয়, মেহেদী হাসান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান।
ভারতের সম্ভাব্য একাদশ:
রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), শুভমান গিল, বিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আইয়ার, কেএল রাহুল (উইকেটরক্ষক), হার্দিক পান্ড্য, রবীন্দ্র জাদেজা, শার্দুল ঠাকুর, কুলদীপ যাদব, জাসপ্রিত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজ।
মুখোমুখি শেষ ৫টি ম্যাচ
বাংলাদেশ জিতেছে ৬ রানে (১৫-সেপ্টেম্বর-২০২৩), ভারত ২২৭ রানে জিতেছে (১০ ডিসেম্বর- ২০২২),
বাংলাদেশ জিতেছে ৫ রানে (০৭-ডিসেম্বর-২০২২), বাংলাদেশ ১ উইকেটে জয়ী (০৪ ডিসেম্বর- ২০২২), ভারত ২৮ রানে জিতেছে (০২ জুলাই- ২০১৯)।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে