Views Bangladesh Logo

নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে সতর্ক করল টিআইবি

সরকারি কর্মজীবীদের নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের সময় সরকার আশা প্রকাশ করেছিল, এটি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মনে করিয়ে দিয়েছে, ২০১৫ সালে বাস্তবায়িত অষ্টম পে স্কেলের সময়ও ঠিক একই ধরনের আশাবাদ ছিল, কিন্তু বাস্তবে ফল হয়েছিল সম্পূর্ণ উল্টো। বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিপরীতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা ও গভীরতা বরং আরও বেশি হারে বেড়েছিল বলে মঙ্গলবার এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছে সংস্থাটি।

নতুন বেতনকাঠামো মন্ত্রিসভায় অনুমোদনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে টিআইবি। তবে এবার যাতে ২০১৫ সালের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে সরকারি কর্মজীবী ও তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয়-ব্যয়ের হিসাব বাৎসরিক ভিত্তিতে হালনাগাদ ও প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আর্থিক সক্ষমতার কঠিন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনটি ধাপে সরকারি কর্মজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা খুবই যৌক্তিক। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে, তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা অসম্ভব।’

তবে সুফল নিশ্চিত করতে হলে স্বচ্ছতার শর্তও পূরণ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘জনগণের করের টাকায় তাদের এই বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে, সকল পর্যায়ের সরকারি কর্মজীবী ও তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব বাৎসরিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করাসহ প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

সম্পদবিবরণী প্রকাশ না করা কর্মজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো প্রযোজ্য না করার পক্ষে মত দেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘যারা নিজেদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করবেন না, তাদের জন্য নতুন ‘পে-স্কেল’ প্রযোজ্য হওয়া অনুচিত। এই শর্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারি খাতে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত সেবার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করি।’

সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, অনেক সরকারি কর্মজীবী আছেন যারা অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সৎভাবে জীবন-যাপন করেন। তাদের জন্য এই নতুন বেতনস্কেল সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত ও অপরিহার্য। অন্যদিকে, যারা অসৎভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ-সম্পদ অর্জনে লিপ্ত, তাদের জন্য এই সুবিধা যেমন অযৌক্তিক, তেমনই সম্পূর্ণ নিষ্প্রয়োজন।’

সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতাকে বৈশ্বিক চর্চায় পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, এই বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা না গেলে সরকারি খাতে দুর্নীতির দুষ্টচক্র থেকে জনগণের পরিত্রাণের উপায় নেই। সংস্থাটি মনে করিয়ে দেয়, দুর্নীতির ভুক্তভোগী জনগণের করের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতাসহ সব ব্যয় বহন করা হয়। এবার অন্তত আগের অভিজ্ঞতার ব্যতিক্রম হবে, এই বিশ্বাস করতে চায় টিআইবি।

বিবৃতিতে আরেকটি সতর্কবার্তাও দিয়েছে সংস্থাটি। বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ফলে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিসহ মূল্যস্ফীতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করে টিআইবি, যা ইতিমধ্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা স্বল্প আয়ের কর্মজীবী নারী-পুরুষসহ সাধারণ মানুষের দুর্দশা আরও বাড়াতে পারে। এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণসহ বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের শর্ত পূরণে সরকারের দূরদর্শিতা প্রত্যাশা করেছে টিআইবি।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ