পাঁচ বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে তিন বিষয়ে অগ্রাধিকার: রেহান এ. আসাদ
আগামী পাঁচ বছরে সরকার তিনটি মূল বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান এ. আসাদ। তিনি বলেন, সর্বজনীন কানেক্টিভিটি নিশ্চিতকরণ, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডেন্টিটি’ বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল ওয়ালেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, টেলিযোগাযোগ খাতে অ্যাক্টিভ শেয়ারিং বাস্তবায়নে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ডিজিটাল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্দীপনামূলক কর কাঠামোর অভাব রয়েছে। তিনি আইএসপি খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে সরকার ও বিটিআরসির প্রতি আহ্বান জানান।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে জানান, ফিক্সড টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডার (এফটিএসপি) নাম পরিবর্তন করে পুনরায় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) নাম বহাল করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ)-এর ব্যবহারের নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং অ্যাক্টিভ শেয়ারিং বিষয়ে শিগগিরই ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জহিরুল ইসলাম বলেন, আইএসপি লাইসেন্স নবায়ন ও অ্যাক্টিভ শেয়ারিং-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আইএসপিএবি সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম জানান, দেশে আইএসপি খাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হলেও নেটওয়ার্কের মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে। অ্যাক্টিভ শেয়ারিং চালু হলে অব্যবহৃত অবকাঠামোর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের হার প্রায় ১৫ শতাংশ, যা সরকারি সহযোগিতা ও নীতিগত সহায়তা পেলে আগামী পাঁচ বছরে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে আইএসপিএবির মহাসচিব নাজমুল করিম ভূইঞা লাইসেন্স নবায়নসহ খাতের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’-এর প্রতিপাদ্য ‘লিংকিং পিপল, লিংকিং ফিউচার’। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে ব্রডব্যান্ড ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের সেবা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্কভিত্তিক পণ্য প্রদর্শন করছে। এক্সপোতে রয়েছে ১০টি প্যাভিলিয়ন, ৩৫টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ২০টি স্টল।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ‘এক্সপেরিয়েন্স জোন’-এ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত রোবটিকস ও আইওটি-ভিত্তিক প্রায় ২৫টি প্রকল্প প্রদর্শিত হচ্ছে। দর্শনার্থীরা সরাসরি এসব উদ্ভাবন দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই এক্সপো দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আগামী ১৫ এপ্রিল এক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এক্সপো সবার জন্য উন্মুক্ত।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে