একই দিনে আদালতে সাতক্ষীরার তিন নজরুল
একই দিনে আদালতে হাজির হয়েছেন সাতক্ষীরার আলোচিত তিন ব্যক্তি—তিনজনেরই নাম নজরুল ইসলাম। তাদের মধ্যে একজন উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন, আর অন্য দুজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১০ আগস্ট) কাকতালীয়ভাবে তিন নজরুল ইসলাম পৃথক মামলায় আদালতের দ্বারস্থ হন। বিষয়টি নিয়ে দিনভর সাতক্ষীরায় আলোচনা চলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা মন্তব্য দেখা যায়।
তিনজনের একজন সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, একজন জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম এবং অন্যজন শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম।
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম: এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় গত ২২ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তরুণীর মামা বাদী হয়ে করা মামলায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মারধর এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।
মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করেন গাজী নজরুল ইসলাম। সোমবার বিকেলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
কারাগারে জেলা আওয়ামী লীগের নজরুল: একই দিন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে সাতক্ষীরা আদালতে হাজির করা হয়। সদর থানায় করা পাঁচটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলাগুলোতে ২০১৪ সালে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ‘ক্রসফায়ারের’ নামে হত্যার নির্দেশ ও মদদ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাশ মণ্ডলের আদালতে শুনানি শেষে মো. নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ২৯ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে।
আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের পাহারায় তাকে গাড়িতে তুলে কারাগারে নেওয়া হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। গাড়িতে ওঠার আগে তিনি উপস্থিত লোকজনের দিকে হাত নাড়েন। পাশে থাকা কয়েকজন স্বজনকে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।
হাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর: অন্যদিকে উচ্চ আদালত থেকে পাওয়া ছয় সপ্তাহের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সোমবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডল।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও হুমকির অভিযোগে করা মামলায় শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। পরে দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী পবিত্র কুমার বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজি ও বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শেখ আবদুস সাত্তারও পৃথক মামলায় মো. নজরুল ইসলাম ও হাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একই দিনে একই নামের তিন আলোচিত ব্যক্তির আদালতের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি সাতক্ষীরায় দিনভর আলোচনার জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা মন্তব্য করেন অনেকে।
মতামত দিন