একসঙ্গে খেলতো, এখন পাশাপাশি কবরে শুয়ে আছে তিন বন্ধু
ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে আরিয়ান, বাপ্পি ও হুমায়ের। একই পরিবারের এই শিশুরা স্কুল, কোচিং ও খেলার মাঠে ছিল অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। কিন্তু সোমবারের সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাদের হাসিমুখ নিথর হয়ে পৌঁছেছে স্বজনদের কাছে। দিয়াবাড়ির তারারটেক মসজিদ এলাকার যে আঙিনায় তারা খেলাধুলায় মেতে উঠতো, সেখানেই এখন তাদের পাশাপাশি কবর।
নিহত শিশুদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতোই তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বাপ্পি ও হুমায়ের এবং চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিয়ান একসঙ্গে মাইলস্টোন স্কুলে যায়। সকাল ১১টায় স্কুল শেষে তারা কোচিং ক্লাসে অংশ নেয়। বেলা দেড়টায় ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাদের। কিন্তু দুপুরে স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে ভেঙে পড়ে সব আশা। দুর্ঘটনাস্থল থেকে বাপ্পি ও আরিয়ানকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যায়। এ ঘটনায় আরও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়, যাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
নিহত শিশুরা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা হলেও বয়স কাছাকাছি হওয়ায় আরিয়ান (১০), বাপ্পি (৯) ও হুমায়ের (৯) ছিল বন্ধু, সহপাঠী, খেলার সঙ্গী। বাপ্পির পিতা মোহাম্মদ আবু শাহিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার ছেলে যে ক্লাসে পড়ে তার আগের ক্লাসটায় বিমানডা ঢুকছে। দেখে তখনি বুঝছি যে, আমার ছেলে আর নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত রাত তিনটা বাজে হাসপাতালে আমার ভাইয়ের ছেলে হুমায়ের মারা গেছে। আমার ছেলে বাপ্পি মারা গেছে সবার পরে।”
মঙ্গলবার এই তিন শিশুর জানাজায় অংশ নেন স্বজন, প্রতিবেশী ও সহপাঠীরা। আরিয়ানের সহপাঠী রাইয়ান আফনান, যিনি দুর্ঘটনার সময় লাইব্রেরিতে থাকায় প্রাণে রক্ষা পায় সেই সহপাঠী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই দিন আমিও স্কুলে ছিলাম। কিন্তু ওই সময় বাইরের লাইব্রেরিতে গেছিলাম। আমি যখন মেইন গেট পার হইছি তখনই বিস্ফোরণের শব্দ শুনলাম।”
হঠাৎ এমন ট্র্যাজেডিতে হতবাক এলাকাবাসী। এলাকার বাসিন্দা মোতালেব হোসেন বলেন, ‘মাত্র একদিন আগে যে শিশুদের একসাথে স্কুলে যেতে অথবা খেলে বেড়াতে দেখলাম, তারা আজ নেই।’
তিন শিশুর পাশাপাশি কবর এখন নীরব সাক্ষী তাদের অকাল বিদায়ের।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে