বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত: বিমানবন্দরের দুর্ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় কুইক রেসপন্স ফোর্সের (কিউআরএফ) দায়িত্ব পালনের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চার সদস্য গুরুতর আহত হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহতরা হলেন—ওয়ারেন্ট অফিসার সুলতান মাহমুদ, কর্পোরাল মনিরুজ্জামান পিয়াস ও লিডিং এয়ারক্রাফটম্যান (এলএসি) মো. জুবাইদুল ইসলাম।
বিমানবাহিনী জানায়, সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টা ৩৫ মিনিটে তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় কিউআরএফের দায়িত্ব পালনকালে বিমানবাহিনীর সাত সদস্যকে বহনকারী একটি জিপ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে সিএমএইচে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত চার সদস্য বর্তমানে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত তিন সদস্যের নামাজে জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকারের (কুর্মিটোলা) সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে সামরিক মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অংশ নেন। এ সময় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নিহতদের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। নিহতদের পরিবারের সদস্য, সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা শেষে নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিদল যথাযথ সামরিক মর্যাদায় তাঁদের দাফন সম্পন্ন করবে।
বিমানবাহিনী জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেন, পিকআপটির চালকের অদক্ষতা কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, চালক কতটা দক্ষ ছিলেন, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতি কত ছিল এবং এর পেছনে কোনো কারিগরি বা অবকাঠামোগত কারণ ছিল কি না—তদন্ত কমিটি এসব বিষয় খতিয়ে দেখবে।
মতামত দিন